ভাঙ্গুড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোয় শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের যাতায়াত

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার প্রত্যন্ত দিলপাশার ইউ'পি পুঁইবিল গ্রামে অবস্থিত ‘পুঁইবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ এর শিক্ষার্থীরা জোড়াতালির সাঁকোদিয়ে জীবনের

2025-11-25T11:42:09+00:00
2025-11-25T11:42:09+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
ভাঙ্গুড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোয় শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের যাতায়াত
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৪২ এএম   (ভিজিট : ১৪৭)
X

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার প্রত্যন্ত দিলপাশার ইউ'পি পুঁইবিল গ্রামে অবস্থিত ‘পুঁইবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ এর শিক্ষার্থীরা জোড়াতালির সাঁকোদিয়ে জীবনের ঝুঁকিনিয়ে স্কুলেটিতে  যাতাতাত করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার পশ্চাৎপদ বিদ্যালয় বিহীন গ্রাম হিসেবে ২০০১ সালে পুঁইবিল গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এক যুগ শিক্ষাকার্যক্রমের পরে বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমান বিদ্যালয়টিতে ১২০ জন শিক্ষার্থীকে ৫ জন শিক্ষক পাঠদান করে আসছেন। শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে যাতাযাতে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গুমানী নদী সংলগ্ন ওয়াপদা বাঁধ পানি নিষ্কাশন স্লুইচগেট ক্যানেলটি। এখানে জোড়াতালি দিয়ে নির্মিত নড়বড়ে কাঠ-বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিনই ছাত্র/ছাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতাযাত করছে।

শিক্ষার্থীদের যাতাযাতের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা, বিদ্যালয়ের স্লিপ ফান্ড এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। সাঁকোটি নির্মাণের পর বর্ষার পানি ও ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে মাত্র কয়েক মাসেই তা নাজুক অবস্থায় পড়েছে।

৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিথি খাতুন বলে, সাঁকো দিয়ে হেটে পারাপারের সময় সাঁকোটি  কাঁপে উঠে। তখন খুব ভয় লাগলে চোখ বুজে তাড়াতাড়ি পার হয়ে থাকি। স্কুল তো দৈনিক যেতেই হয়।

৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী হোসাইন আহমেদ বলে, বাতাস এলেই সাঁকো দুলতে থাকে। মনে হয় পড়ে যাব। বৃষ্টি হলে আরও ভয় লাগে।

এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সাঁকোর নিচে পানি অনেক গভীর। কচুরিপানায় ভরার কারণে তলদেশে কিছু দেখা যায় না।বাচ্চারা হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গেলে প্রাণ নাশের সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি এই ক্যানেল উপর একটি স্থায়ী ফুটব্রীজ নির্মাণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্থানীয় গৃহবধূ সেলিনা বেগম বলেন, বাচ্চা স্কুলে গেলে সাঁকো পার না হওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকি। প্রতিদিনই মনে হয় পানিতে পড়ে যাবে।

প্রধান শিক্ষিকা মোছা. ফাতেমা খাতুন জানান, একদিন একসঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থী উঠতেই সাঁকো এমনভাবে কেঁপেছিল যে ভেবেছিলাম ভেঙে পড়বে। এটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সহকারী শিক্ষক মো. কামাল হোসেন বলেন, কর্তৃপক্ষের নিকট সমস্যার সমাধানের জন্য বারবার আবেদন-নিবেদন করলেও  এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।স্থায়ী সেতু ছাড়া শিক্ষার মান স্বাভাবিক রাখা কঠিন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন,বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। স্থায়ী সেতু নির্মাণের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগকে জানানো হবে।

স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল বিদ্যালয়টির দেড়শ'ধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy