প্রকাশ: বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:১৬ পিএম আপডেট: ২৬.১১.২০২৫ ৪:৩০ পিএম (ভিজিট : ৬৯)

X
সংগৃহীত ছবি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামে সাত বছরের শিশু জায়ান রহমান হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও চাঞ্চল্য। ঘটনার পাঁচ দিন পর পুলিশ হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে প্রতিবেশী ইউনুচ মোল্যা (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। শিশুটির ঝুলন্ত মরদেহে ব্যবহৃত রশিকে এ মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করছে পুলিশ, আর সেই রশির সূত্র ধরেই ইউনুচ মোল্যার দিকে সন্দেহের তীর যায়।
গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়। এর আগের দিন সোমবার নিজ বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইউনুচ মোল্যা পাকুড়িয়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিন মোল্যার ছেলে।
থানা সূত্র বলছে, গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে পাকুড়িয়া গ্রামের গ্রীস প্রবাসী পলাশ মোল্যার ছেলে জায়ানের ঝুলন্ত মরদেহ বাড়ির পাশের একটি বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরদিনই নিহতের মা সিনথিয়া বেগম অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে শিশুটির গলায় ব্যবহৃত রশিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়। পুলিশ রশিটি সংগ্রহ করে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে জানতে পারে, সেটি স্থানীয় টাবনী বাজারের মফিজ খানের মুদি দোকান থেকে কেনা হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে, ঘটনার ১০–১৫ দিন আগে প্রতিবেশী ইউনুচ মোল্যা একই ধরনের একটি রশি ওই দোকান থেকে কিনেছিলেন।
এই তথ্য হাতে পাওয়ার পর পুলিশ ইউনুচ মোল্যাকে সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে হেফাজতে নেয়। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইউনুচ মোল্যা রশি কেনার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তার এই অস্বীকারই পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে বলে জানিয়েছেন তদন্ত–সংশ্লিষ্টরা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুজন বিশ্বাস জানান, “আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার স্বার্থে ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তাকে রিমান্ডে এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে।”
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল আলম বলেন, “রশি কেনা নিয়ে মিথ্যা বলাসহ ঘটনার সঙ্গে কিছুটা সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এসব কারণে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
পুরো এলাকাজুড়ে এখন শুধু একটাই প্রশ্ন—কেন এমন নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড ঘটল এবং এর পেছনে প্রকৃত কারণ কী? পুলিশ বলছে, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট মিললেই হত্যার রহস্য আরও স্পষ্ট হবে।