প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:২১ পিএম আপডেট: ২৭.১১.২০২৫ ৩:৪৪ পিএম (ভিজিট : ১১৬)

X
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় অবিলম্বে ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে ইসলামী মহাসম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, ইসকন হচ্ছে একটি উগ্রবাদী ইসলাম বিদ্বেষী ও দেশের স্বার্থবিরোধী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। ইসকন তাদের সাংগঠনিক অপতৎপরতার মাধ্যমে বাংলাদেশের সম্প্রীতি বিনষ্টে উস্কানি দিচ্ছে। তারা ভারতের মতো এদেশেও সাম্গ্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টির অশুভ পাঁয়তারা করছে। উগ্র এই সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় উস্কানীসহ নানাভাবে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে।
গত বুধবার রাতে কুমিল্লা কেন্দ্রিয় ঈদগাহে আয়োজিত ইসলামী মহাসম্মেলনে দেশ-বিদেশের ওলামা মাশায়েখ ও ইসলামী চিন্তাবিদগণ বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
আদর্শ সমাজ গঠনে দেশের কওমি মাদরাসাগুলো ব্যাপক ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, কওমি মাদরাসা এদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও নির্মূলে অগ্রগণ্য ভূমিকা নিয়ে কাজ করছে। অথচ কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বরাবরই বৈষম্যের শিকার। দেশ, সমাজ ও মানবতার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পরও রাস্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে কওমি শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত। বিগত সরকারের আমলে কওমি মাদরাসার তাকমিল তথা দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান স্বীকৃতি দেয়া হলেও এখনো এর যথাযথ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের কোন সদিচ্ছা পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। অবিলম্বে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং এ ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
কুমিল্লা জেলা কওমী মাদরসা সংগঠনের সভাপতি ও বটগ্রাম মাদাসার মুহতামিম আল্লামা নুরুল হকের সভাপতিত্বে ইসলামী মহাসম্মেলনে আমন্ত্রিত আন্তর্জাতিক বক্তা পাকিস্তানের মুফতি ফয়সাল নাদিম ও ভারতের আল্লামা সাইয়্যেদ হাসান আসজাদ মাদানী ছাড়াও সিলেটের আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী, সিরাজগঞ্জের মাওলানা আবদুল বাসেত খান সিরাজীসহ ওলামা মাশায়েখ ও ইসলামী চিন্তাবিদগণ বক্তব্য রাখেন।
ইসলামী মহাসম্মেলনে কুমিল্লা জেলা কওমী মাদরসা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুল কুদ্দুস সংগঠনের বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এরমধ্যে কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা, প্রাইমারি বিদ্যালয়ের সিলেবাসে ইসলামী শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে প্রতিটি স্কুলে একজন করে ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারিদের সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি নিশ্চিত, ২০১৩ সালে হেফাজতের মামলাাসহ বিভিন্ন সময়ে ওলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ কুমিল্লা শহরের যানজট নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবি বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।