
X
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রদর্শনী উপলক্ষে গতকাল বিকেল ৪টায় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বরূপকাঠি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম।
জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহকে ঘিরে সরকারের নানামুখী উদ্যোগ ও সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও সারা দেশের ন্যায় নেছারাবাদ উপজেলাতেও এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহমুদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার ঘোষসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, খামারি ও সাধারণ মানুষ।
উদ্বোধনকালে ইউএনও মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে প্রাণিসম্পদ খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকার খামারিদের উন্নত প্রযুক্তি, টিকা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরো দক্ষ করে তুলতে কাজ করছে। নেছারাবাদ উপজেলার সম্ভাবনাময় এই খাতকে এগিয়ে নিতে প্রশাসন সর্বদা খামারিদের পাশে থাকবে।”
অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার ঘোষ প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “গবাদিপশুর উন্নত জাতসংরক্ষণ, রোগ প্রতিরোধ, মানসম্পন্ন দুগ্ধ ও মাংস উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের ফিল্ড কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। খামারিদের আধুনিক পদ্ধতিতে পশুপালনে উৎসাহিত করা ও যথাযথ পরামর্শ প্রদানই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
প্রদর্শনীতে উপজেলার বিভিন্ন খামারিরা তাদের পালনকৃত গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি, কবুতরসহ নানা জাতের পোষা প্রাণী প্রদর্শন করেন। এছাড়া দুগ্ধজাত পণ্য, রোগ প্রতিরোধমূলক টিকা কার্যক্রম, প্রাণী পরিচর্যা ও উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে দর্শনার্থীদের তথ্য প্রদান করা হয়। কৃষক ও খামারিরা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে আধুনিক পদ্ধতিতে বেশি উৎপাদনের কৌশল সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা নেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি, মৎস্য, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রদর্শনী ঘুরে দেখে তারা খামারিদের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে সরকারি সেবা গ্রহণে উৎসাহিত করেন।
আলোচনা শেষে অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, নারী খামারি ও নতুন প্রজন্মের তরুণদের অংশগ্রহণে প্রদর্শনীটি উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রদর্শনী খামারিদের আরও উদ্বুদ্ধ করবে এবং নেছারাবাদের প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।