চট্টগ্রামে অনুমোদনহীন ভবনের কোনো পরিসংখ্যান নেই

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাবাংলা

চট্টগ্রাম নগরে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১১১টি ভবন আছে। কিন্তু চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমোদনহীন ভবন কয়টি তার

2025-11-27T18:54:07+00:00
2025-11-27T18:54:07+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
চট্টগ্রামে অনুমোদনহীন ভবনের কোনো পরিসংখ্যান নেই
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:৫৪ পিএম   (ভিজিট : ৭৩)
X

চট্টগ্রাম নগরে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১১১টি ভবন আছে। কিন্তু চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমোদনহীন ভবন কয়টি তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই।

তবে সিডিএ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এবং নিজস্ব পরিদর্শনের ভিত্তিতে অনুমোদনহীন ভবন ভাঙার জন্য সংশ্লিষ্ট মালিককে চিঠি দেয়।  

চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানাধীন বটতলী মৌজার রেয়াজুদ্দিন বাজারের ৩২ নম্বর ‘বাণিজ্য ভবন’ নামের একটি ছয় তলা অনুমোদনহীন ভবন ভেঙে ফেলার জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর চিঠি দেয়। কিন্তু দুই বছর পার হলেও ভবনটি ভাঙা হয়নি।

জানতে চাইলে বাণিজ্য ভবনের মালিক মো হোসেন বলেন, ‘ভবনটি তিনি কিনে নিয়েছেন। তবে কেনার আগে তার জানা ছিল না সেটিতে চউকের অনুমোদন নেই। তবে একথা সত্য যে, ৪০ থেকে ৫০ বছর আগে ভবনটি যখন নির্মাণ করা হয়, তখন নিয়ম কানুন সম্পর্কে অনেকের তেমন ধারণা ছিল না। তাই সে সময় ভবন নির্মাণে অনেকেই চউক থেকে অনুমোদন নিত না। আসলে সে সময় মিস্ত্রি দিয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল বলে ধারণা। তাই এটি যে পরিকল্পিত ভবন নয়, তা আমরা এখন বুঝতে পারছি। বর্তমানে সিডিএ ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ঘোষণা করেছে। ভবনের কয়েকটি পিলার এবং বিমে ফাটল ধরেছে। 

সিডিএর অথরাইজড অফিসার-২ প্রকৌশলী তানজীব হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম নগরে অনেক পুরোনো ভবন আছে, যা নির্মাণের সময় অনুমোদন নেওয়া হয়নি। অননুমোদিত ভবনগুলোর বেশির ভাগই অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত। মূলত মিস্ত্রি দ্বারা এসব ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। তাই এসব ভবনের পিলার, বিম এবং ছাদে ফাটল ধরতে বেশি সময় লাগে না।

সিডিএ অনেক সময় নিজে পরিদর্শন করে আবার কখনো আশপাশের লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে। তবে আইনে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের ক্ষমতা সিডিএ’র নেই। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার পর তা অপসারণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়। চসিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ করে।

জানা যায়, বর্তমানে নগরে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১১১টি ভবন আছে। এর মধ্যে অনুমোদনহীন, নকশাবহির্ভূত, অনুমোদিত নকশা-শর্ত ভঙ্গ, ৮ তলার অনুমোদন নিয়ে ১০ তলা ও ১০ তলার অনুমোদন নিয়ে ১২ তলা ভবন নির্মাণ, ফ্লোর স্পেস বাড়ানো, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ইচ্ছামতো ভবন নির্মাণ এবং খাল-নালা ড্রেন দখল ও পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ হয়েছে। এসবের কোনো সংখ্যা সিডিএ’র কাছে নেই।

দিনের পর দিন এসব গুরুতর অনিয়ম করেই চলছে ভবন নির্মাণ। অনুমোদনহীন ভবন নিরাপত্তার জন্য হুমকি, সঙ্গে ভূমিকম্প ও দুর্যোগ পরিস্থিতিতে বিপর্যয়ের ঝুঁকি। তবে সিডিএ অনিয়ম করে নির্মিত ও নকশাবহির্ভূত অংশ ভাঙার জন্য ৫০টি ভবন চিহ্নিত করে ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার উদ্যোগ নেয়। ইতোমধ্যে দুই অভিযানে ২২টি ভবনের নকশাবহির্ভূত অংশ ভাঙা, জরিমানা ও মালিক পালিয়ে যাওয়ায় দুটি ভবন সিলগালা করা হয়। এ ধরনের আরও ভবনের তালিকা তৈরি করবে চউক।

ইমারত নির্মাণ আইনের ৩(বি) ধারা অনুযায়ী অনুমোদনহীন ভবনের মালিককে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়। এরপর অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ৩বি (৩) ধারা অনুযায়ী ভবন ভেঙে অপসারণ করার জন্য বলা হয়।

ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮ অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরু বা স্থগিত কাজ শুরুর ১৫ দিন আগে সিডিএকে জানাতে হয়। তবে অধিকাংশ মালিকই এ নিয়ম মানেন না। একই সঙ্গে নতুন ভবনের নকশা পরিবর্তন বা নিরাপত্তাব্যবস্থা লঙ্ঘন করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য।

অভিযোগ আছে, চউক চিঠি দিলেও তা গুরুত্ব দেন না ভবন মালিকরা। ফলে মালিকদের উদ্যোগে অনুমোদনহীন ভবন ভাঙার দৃষ্টান্ত নেই বললেই চলে। আবার ভবনমালিককে নোটিশ দিয়ে চউকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে তাদের সঙ্গে দেখা করে উৎকোচ আদায়েরও অভিযোগ আছে।

জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি আশিক ইমরান বলেন, চট্টগ্রাম শহরের তিন লক্ষাধিক ভবনের মধ্যে বহুতল ভবন রয়েছে ৬ থেকে ৭ হাজার। গত পাঁচ বছরে যেসব ভবন নির্মিত হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্নিনিরাপত্তা আইন মানা হয়েছে। কিন্তু ১০ থেকে ১২ বছর আগে যেসব বহুতল ভবন বানানো হয়েছে, সেগুলোতে অগ্নি ও ভূমিকম্প নিরাপত্তার কোনো তোয়াক্কা করেনি। ফলে চট্টগ্রামে বিশাল এক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রামের উপপরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামের অসংখ্য ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। তবে রিয়াজুদ্দিন বাজার, ঘিঞ্জি মার্কেটগুলো মারাত্মক অগ্নি ও ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। এই এলাকায় ছোট-বড় ১১০টি মার্কেট রয়েছে। লেনের ভেতরে রয়েছে অসংখ্য সরু গলি, যেখানে দুজন মানুষ পাশাপাশি হাঁটাই দায়। এই লেনের পাশে রয়েছে রিয়াজুদ্দিন বাজার, হকার্স মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি মার্কেট; যেখানে রয়েছে কয়েক হাজার দোকান। এসব মার্কেটে নেই পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা। অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্প ঘটলে বের হওয়ার বিকল্প পথ নেই। তার ওপর রয়েছে খোলা বৈদ্যুতিক তারের জঞ্জাল। 





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy