প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৩০ পিএম (ভিজিট : ১২৩)

X
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে টিনের এক চালা বাঁশ দিয়ে চাপা দেওয়া চার পাশে বাঁশের বেড়া ও পলিথিনে মোড়ানো ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন চার সদস্য বিশিষ্ট একটি অসহায় পরিবার।
ঘরে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন দিনমজুর সুকুমার দেব। মাথাগোঁজার একমাত্র ঠিকানা পৈত্রিক ভিটার ছোট এই ঘরটি। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ, ভাঙা ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরটিতে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি। রোদে শুকিয়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে আতঙ্ক নিয়ে তারা বসবাস করেন ওই ভাঙা ঘরে। বৃষ্টি পড়লে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যায়। সুকুমার দেব উপজেলার বরমা ইউনিয়নের বাইনজুরী গ্রামের মাহজন পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত সাধন দেব এর ছেলে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুকুমারের ঘরটি দীর্ঘ অনেক বছর যাবত জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অসহায় পরিবারটির পাশে এখনো পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসেনি।
জরাজীর্ণ এই ঘরে এলোমেলো পুরনো কাপড়-চোপড়। ঘরের এককোণে রান্নার চুলা, আর চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাতিল। এসব নিয়েই তাদের সংসার। অভাবের তাড়নায় কখনো খেয়ে আবার কখনো না খেয়েই কোন মতে চলছে তাদের সংসার। সুকুমার বলেন, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে সংসার চলছে। আয়-উপার্জন কম তাই এই ঘরেই কোন মতে বসবাস করছি। যদি সরকারিভাবে একটা ঘর করে দিত তাহলে একটু শান্তিতে থাকতে পারতাম।
সুকুমারের স্ত্রী স্বপ্না বলেন, সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্ট করে জীবন চলছে। ঘরে থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ওপরের ছাউনি থেকে পানি পড়ে, ঘরের ভেতরের সব কিছু ভিজে যায়। স্বামীর উপার্জন কম, তাই ভালো একটা ঘর বাঁধতে পারছি না। সুকুমারের স্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, কত মানুষ কত সুযোগ-সুবিধা পায় আমরা কিছুই পায় না।
অভাবের সংসারে এখন দিশেহারা সুকুমার-স্বপ্না দম্পতি, সামান্য কিছু জায়গা থাকলে ও নতুন ঘর তৈরি করবেন কিংবা পুরাতন ঘর মেরামত করবেন সেই সামর্থ্য নেই পরিবারটির। এ বিষয়ে স্বপ্না দেব জানান, আমার বিয়ের পর থেকেই পরিবারে দরিদ্রতার হতাশা লেগে রয়েছে। আমি যাতে একটা ঘর নির্মাণ করতে পারি এইজন্য আপনার মাধ্যমে সরকারি অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মধুসুধন দত্তের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সুকুমার ভিজিডি ও টিসিবি কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। তবে সুকুমার দেব গরিব মানুষ, তার জন্য একটি ঘর খুবই প্রয়োজন।