প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:০৯ পিএম (ভিজিট : ৫২)

X
বাংলাদেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত ‘জগন্নাথদিঘি মুক্তাঞ্চল’ দিবস আজ (২৮ নভেম্বর)। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই দিনটি এক বিশেষ মাইলফলক। ১৯৭১ সালের এই দিনে সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী জগন্নাথদিঘি এলাকার প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা শত্রুমুক্ত হয়—যা ছিল দেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল প্রতিষ্ঠার ঘটনা।
জগন্নাথদিঘি মুক্তাঞ্চল স্মৃতি রক্ষা পরিষদ সূত্র জানায়, মুক্তিযুদ্ধের শেষ প্রহরে, ১১ নভেম্বর ১৯৭১ সালে জগন্নাথদিঘি ইউনিয়নের বেতিয়ারায় পাক হানাদার বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে মুক্তিবাহিনীর ৯ জন বীর গেরিলা যোদ্ধা শহীদ হন। ওই ঘটনার পর মুক্তিবাহিনীর আক্রমণ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ধারাবাহিক যুদ্ধের পর ২৭ নভেম্বর গভীর রাতে জগন্নাথদিঘির পাড়ে অবস্থিত পাকবাহিনীর ক্যাপ্টেন জংয়ের ঘাঁটি পতন ঘটে। এর মাধ্যমে উত্তর-দক্ষিণ জুড়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা মুক্ত হয়।
এরপর ২৮ নভেম্বর সকাল ১০টায় মুজিবনগর সরকার নিয়ন্ত্রিত ডিমাতলী (বড়টিলা) ক্যাম্পের প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা জসীম উদ্দিন চৌধুরী তার ১৬ জন সহযোদ্ধাকে নিয়ে জগন্নাথদিঘি ইপিআর ক্যাম্পে (সাবেক বিজিবি ক্যাম্প)—যা ছিল পাকবাহিনীর ক্যাপ্টেন জংয়ের দখলে—আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। অনুষ্ঠানে তৎকালীন কুমিল্লার চারজন গণপরিষদ সদস্য—অ্যাডভোকেট মীর হোসেন চৌধুরী, আবদুল আওয়াল, আলহাজ আলী আকবর মজুমদার ও জালাল আহম্মদ—উপস্থিত ছিলেন। পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে স্থানটি তাৎক্ষণিকভাবে মুজিবনগর সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে।
জগন্নাথদিঘি মুক্তাঞ্চল স্মৃতি রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক ও বড়টিলা ক্যাম্পের প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা জসীম উদ্দিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার রাতে জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এলজিইডি প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ স্থানে একটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মিলনায়তন নির্মাণ করেছে। প্রতি বছর দিবসটি উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হলেও, তার শারীরিক অসুস্থতার কারণে এবার অনুষ্ঠানটি হচ্ছে না। তবে শুক্রবার বাদ জুমা এলাকার মসজিদগুলোতে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।