প্রকাশ: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:৫০ পিএম (ভিজিট : ১৪২)

X
আজ ২৯ নভেম্বর, বক্তাবলী গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালে আজকের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায় নারায়ণগঞ্জের ফতুলস্নার প্রত্যন্ত অঞ্চল বক্তাবলী পরগনার ২২টি গ্রামে। বর্বরোচিত ওই হামলায় প্রাণ হারান ১৩৯ জন নিরীহ মানুষ।
মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসে ২৯ নভেম্বর দিনটি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য তাই বেদনাবিধুর দিন। বিশেষ করে বক্তাবলী পরগনাবাসী আজকের এই দিনটিকে শোকের দিন হিসাবে দিবসটি পালন করে থাকে। স্বাধীনতা ৫৪ বছরেও ১৩৯ শহিদ পরিবার সরকারিভাবে স্বীকৃতি পায়নি।
বক্তাবলী গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সরকারি ভাবে বক্তাবলীর লক্ষ্ণীনগর পূর্বপাড়া কবরস্থানের পাশে বধ্যভূমিতে গড়া স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এমনকি কানাইনগর ছোবহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ মাঠে স্থাপিত স্মৃতি স্তম্ভে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তবে সরকারি কিংবা দলীয়ভাবে কেউ শহীদ পরিবারের খোঁজখবর নেয় না বলে অভিযোগ পরিবারগুলোর। ১৩৯ শহিদ পরিবার সরকারিভাবে স্বীকৃতি না পাওয়ায় ক্ষোভ করেন।
বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীবেষ্টিত বক্তাবলী এলাকা মুক্তিযুদ্ধের সময় পরগনা ছিল। এখন সেটি ভেঙে তিনটি ইউনিয়ন পরিষদে রূপান্তরিত হয়েছে। শষ্যভান্ডারখ্যাত বক্তাবলীতে ১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর ভোরে হানা দেয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
কুয়াশাঘেরা দিনের শুরুই হয় পাকিস্তানিদের গুলির শব্দে। দুইটি নদীর পাড়ে গানবোট নিয়ে কয়েক প্ল্যাটুন সেনা হামলে পড়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে। ২২টি গ্রাম থেকে নিরীহ ১৩৯ জনকে ধরে এনে নদীর পাড়ে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে পাশের লক্ষ্ণীনগর গ্রামে স্তূপাকারে রাখা হয়। কারও কারও লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয় নদীতে। ২২টি গ্রামের বাড়িঘর গান পাউডার দিয়ে পুড়িয়ে দেয় পাক হানাদার বাহিনী।
বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, মুক্তিযুদ্ধাকালিন সময় তার গ্রামের বাড়ি মুক্তার কান্দি তাদের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেয়া হয় এবং অস্ত্র চালানোর ট্রেনিং দেয়া হয়। ঐ সময় মুজিব বাহিনীর অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ শেষে বক্তাবলী ও এর আশপাশের গ্রামে অবস্থান নেন। ওই সময় বক্তাবলী গ্রামে এক থেকে দেড়শ বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। শহরের মুক্তিযোদ্ধা সহ রাজনৈতিক লোকজন দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় এলাকাটিকে নিরাপদ মনে করতেন। ওই এলাকার তৎকালীন কমান্ডার ছিলেন প্রয়াত সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুল ইসলাম, কাউন্সিলর আজহার হোসেন, আবদুর রব, মাহফুজুর রহমান, প্রয়াত স.ম নুরুল ইসলামসহ আরও অনেকে তখন বক্তাবলীতে অবস্থান করতেন।
তিনি আর বলেন, ২৯ নভেম্বর ১৩৯ জন শহিদ পরিবারকে সরকারি ভাবে সুযোগ সুবিধা দেয়ার জন্য আমরা দাবি জানিয়ে আসছি। আমরা চাই শহিদ পরিবারকে সরকারী ভাতা সহ প্রতিটি পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি ভাবে চাকরীর ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: রায়হান কবির জানান, ২৯ নভেম্বর বক্তাবলী পরগনার শোকের দিন। শোকের দিন হিসাবে প্রতি বছরের মত এ বছরও সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তারা এটি পালন করে থাকেন। এ বছরও তাদের কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।