প্রকাশ: রোববার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:০১ পিএম (ভিজিট : ১৯০)

X
নাটোরের নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের খামার এলাকায় ‘ভ্যালী ইরিগেশন’ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সহস্রাধিক গাছ কাটা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৮০০টির মতো মেহগনি, শিশু, খয়ের, খেজুরসহ বহু বছরের পুরোনো মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পটি সরকারি নাকি ঠিকাদারি এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। নিয়ম অনুযায়ী বনবিভাগের অনুমোদন, মূল্য নির্ধারণ এবং নিলামের মাধ্যমে গাছ কাটার কথা থাকলেও মাত্র ১৩২টি গাছের মূল্য নির্ধারণ করেই হাজারো গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, “ইরিগেশন প্রকল্পের প্রয়োজন থাকতে পারে, কিন্তু এত ব্যাপক হারে গাছ কাটা অযৌক্তিক। এতে খামারের পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের ভারসাম্য নষ্ট হবে।” পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, অনুমোদন ছাড়া এমন বৃক্ষ নিধন পরিবেশ আইনের লঙ্ঘন।
স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, সেচের জন্য জমি সমতল করার প্রয়োজন হলেও পরিবেশসম্মত পরিকল্পনার কথা ভাবা হয়নি। অনেকেই দাবি করছেন, তদন্ত ছাড়া এভাবে গাছ কাটা বন্ধ করা উচিত।
এ ঘটনায় খামার ব্যবস্থাপক মাহাবুবুর রহমান ও মিলের এমডি ফরিদ উদ্দিনের সাথে ফোনে বা সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বনবিভাগ জানায়, মিল কর্তৃপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে ১৩২টি গাছের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিএডিসির কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে ছায়ামুক্ত প্রায় ১০০ একর জমি প্রয়োজন হবে। তবে এটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে প্রকল্পের স্বার্থে এত বিপুল গাছ কাটা কতটা যৌক্তিক।
নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের মহাব্যবস্থাপক (খামার) বাকী বিল্লাহ বলেন, “ভ্যালি ইরিগেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকাবাসী ও মিল উপকৃত হবে,” এবং সব প্রক্রিয়া মেনেই গাছ কাটা হচ্ছে বলে দাবি করেন।