প্রকাশ: সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:৫৩ পিএম (ভিজিট : ৪০৮)

X
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সোনিয়া সরকার নামে এক বাউল শিল্পীর স্বামী সুমন খলিফাকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে ফতুল্লার মধ্য নরসিংপুর এলাকা থেকে সুমনের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায় পুলিশ।
নিহত সুমন খলিফা বরিশাল জেলার আগৈলজরা থানার আন্দার মানিক গ্রামের মন্টু খলিফার পুত্র। সে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সোনিয়াকে নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মৌচাক এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতো।
ফতুল্লা মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত সুমন খলিফার দ্বিতীয় স্ত্রী বাউল শিল্পী সোনিয়া সরকার বিভিন্ন বাউল গানের ক্লাবে গান গায়। নিহত সুমনের প্রথম স্ত্রী বাউল শিল্পী ইতির সাথে বনিবনা না হওয়ায় দেড় বছর পূর্বে বিচ্ছেদের পর সোনিয়াকে বিয়ে করে। রোববার রাত দশটার দিকে নিহত সুমন খলিফা তার স্ত্রী সোনিয়ার সাথে পঞ্চবটি মেথর খোলাস্থ সোহেল সরকারের গানের ক্লাবে যায়। রাতভর সোনিয়া সহ অন্যান্য শিল্পীরা সেখানে গান করে।
পরবর্তীতে সকালে নিহতের স্ত্রী সোনিয়া বাসায় যাওয়ার জন্য প্রস্ততি নিলে স্বামীকে খুজে না পেয়ে তার সহযোগীকে নিয়ে তার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে সোনিয়া মাসদাইর ঈদগাহ'র সামনে ছিনতাইকারীর কবলেও পড়ে। পরে সোনিয়া সরকার বাসায় তার স্বামীকে না পেয়ে থানায় ছুটে আসে। আর সকাল বেলা জরুরী সেবা-৯৯৯ এ ফোন আসে যে মধ্য নরসিংপুরে একটি রক্তাক্ত লাশ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সোনিয়াকে অবগত করলে সে লাশের ছবি দেখে শনাক্ত করে নিহত ব্যক্তিটি তার স্বামী সুমন খলিফার।
তিনি আরও জানান, পঞ্চবটি গানের ক্লাব থেকে সুমন কিভাবে নরসিংপুর গেলো এবং কেনোই বা তাকে হত্যা করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী সোনিয়া সরকারের সহোযোগী হারমোনিয়াম বাদক ইউনুস সরকার জানান, রাতভর গান শেষে ভোর সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে তার অপর সহোযোগি মতি দেওয়ানকে সাথে নিয়ে মিশুকযোগে সোনিয়াকে সিদ্ধিরগঞ্জের বাসায় যাবার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে।ছিনতাইকারী তাদের গতিরোধ করে চাকু, চাপাতির ভয় দেখিয়ে তাদের সাথে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর তারা থানায় আসে। তখন সোনিয়া ছিনতাইয়ের ঘটনার পাশাপাশি স্বামী নিখোঁজের বিষয়টি পুলিশকে অবগত করে। পুলিশ তখন লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি সোনিয়াকে জানায়।