
X
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে দুই মাস আগে ঘটে যাওয়া মাহাফিজুল ইসলাম হত্যা মামলা নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাম্প্রতিক একটি সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে প্রতিবাদ স্বরূপ অপর আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
গত ৩০ নভেম্বর রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বৈশাখী নিউজ ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত সেই সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ছেলে সজিব ইসলাম দাবি করেন- হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কজনিত বিরোধ জড়িত থাকতে পারে। আর এতেই এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক।
হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছিল গত দুই মাস পূর্বে পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়া খাগড়াবন্দ কোটোয়ালপাড়া গ্রামে গভীর রাতে। ঘটনার প্রায় দুই মাস পর বিষয়টি আবার আলোচনায় আসায় স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে।
এ প্রেক্ষাপটে পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এ জেড এম মিনহাজুল হক। লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি দাবি করেন- হত্যাকাণ্ড নিয়ে সাম্প্রতিক প্রচার ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করে।
তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডটিকে শ্যালিকার সঙ্গে পরকীয়াজনিত ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হলেও, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিহতের ছেলেকে ভুল বুঝিয়ে রাজনৈতিকভাবে আমাকে ও আমার পরিবারকে হেয় করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পিতা হত্যার বিচার দাবির পরিবর্তে সংবাদ সম্মেলনটি রাজনৈতিক কুৎসা রটনায় পরিণত করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে আদালতে ছয় জনের নাম উল্লেখ করে চার্জশিট দাখিল করেছে। বর্তমানে এই মামলা টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
বিএনপির এই নেতা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,যে কোনো মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন প্রচারণা থেকে বিরত থাকতে হবে। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও রহস্য উদঘাটনের দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনের। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আকরাম হোসেন, দপ্তর সম্পাদক খয়রাত হোসেন বাচ্চু, কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম, জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ফয়জুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু বক্কর সিদ্দিকসহ দলীয় ও সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘটনা নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে মিনহাজুল হকের এই অভিযোগ পার্বতীপুরে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে পুলিশ বলছে, হত্যা মামলার তদন্ত যথারীতি হয়েছে; তদন্ত বা বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে সরাসরি মন্তব্য করা ঠিক হবে না।