ওয়াসা জানায়, উন্নত দেশের মতো পানি ব্যবহারের ভিত্তিতেই স্যুয়ারেজ বিল নির্ধারণ হবে। যেখানে ওয়াসার পানি সংযোগ নেই, সেসব স্থাপনায় ফ্ল্যাট হার ধরে বিল করা হবে। তবে অ-রাজস্বভুক্ত পানি, অবৈধ সংযোগ ও দুর্বল বিলিং ব্যবস্থা রাজস্ব আদায়কে কঠিন করে তুলবে। বর্তমানে ওয়াসার পানির প্রায় ২৫ শতাংশই অ-রাজস্বভুক্ত।
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, পানির বিল সঠিকভাবে আদায় না হলে স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনাও ব্যাহত হবে। স্মার্ট মিটার ও জাইকাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ালে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৪০ কোটি লিটার পয়ঃবর্জ্য উৎপন্ন হয়, যা নালা-খাল হয়ে কর্ণফুলী ও হালদা নদী হয়ে শেষ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে মিশে যায়। বর্তমানে মাত্র ৩৫ ঘনমিটার মানববর্জ্য পরিশোধন হয়; বাকি অংশ সরাসরি পরিবেশে যাচ্ছে।
২০১৮ সালে শুরু হওয়া প্রথম ক্যাচমেন্টের প্রকল্পে দৈনিক ১০ কোটি লিটার সক্ষমতার পয়ঃশোধনাগার, ৩০০ ঘনমিটার ফিক্যাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও ২০০ কিমি পাইপলাইন নির্মাণ কাজ চলছে। প্রকল্পটির অগ্রগতি ৬৫ শতাংশ, শেষ হতে সময় লাগবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত।
এ ছাড়া কালুরঘাট–বাকলিয়া, কাট্টলী, ফতেহাবাদ ও পতেঙ্গা ক্যাচমেন্টে আরও কয়েকটি বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদিত বা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০৩৫ সালের আগেই পুরো নগরী স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে।
ওয়াসার বিলিং ব্যবস্থা বর্তমানে পুরোপুরি ম্যানুয়াল, যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ ত্রুটি দেখা যায়। নতুন অ্যাপ-ভিত্তিক অটোমেশন চালু হলে তাৎক্ষণিক বিল প্রদান, মিটার ছবি আপলোড ও জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জালিয়াতি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ওয়াসার কর্মকর্তারা বলছেন, সঠিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি-নির্ভর তদারকি নিশ্চিত করতে পারলে চট্টগ্রামের স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা দেশের জন্য মডেল হয়ে উঠবে।