প্রকাশ: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:২২ পিএম আপডেট: ০৬.১২.২০২৫ ৪:৩৩ পিএম (ভিজিট : ৩৫)

X
শীতের সকাল। কুয়াশার আঁচল সরিয়ে হাজারো শিশির বিন্দু মুক্তো দানার মতো চেয়ে আছে ঘাসের উপর। সেই সাথে গ্রামের দিগন্তজোরা ফসলি মাঠ, কাঁচা-পাকা ধানের মাতাল গন্ধ যেন মনে করিয়ে দেয় নবান্নের উৎসব। আর সেই সাথে নতুন ধানের পিঠা পুলির আনন্দ এ যেন বাঙালির চিরচেনা রুপ।
একটা সময়ে গ্রাম-গঞ্জের বৌ-ঝিরা সারা বছরই কোন না কোন পিঠা তৈরি করতো। পিঠা শুধুই লোকজ খাদ্য নয় এটা বাংলা ও বাঙালির লোকজ ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে বাংলার সংস্কৃতি। আধুনিকতার ছোঁয়ায় পারিবারিক ও সমাজ জীবন থেকে পিঠা তৈরির প্রচলন কমে যাচ্ছে।
তবে বাঙালির এই ঐতিহ্য কছুটা হলেও যেন ধরে রেখেছে মৌসুমি পিঠা ব্যবসায়ীরা। শীত উৎসবের আমেজ বোঝা যায় রাস্তার অলি গলি বা মোড়ে মোড়ে বসা পিঠা বিক্রির বাহারি পসরা দোকান দেখেই। গ্রাম কিংবা শহর। বৈকালিক ও সন্ধ্যাকালীন পিঠার দোকানে ভির দেখা যায়। হরেক রকমের ভর্তার পরসা সাজিয়ে তৈরি হয় চিতই ও ডিম পিঠা। এছাড়াও ভাপা, পুলি, ছিটা, রসপিঠা, পাটিসাপটার মতো মজাদার হরেক রকম পিঠা তো আছেই। পথচারীরা গরম গরম পিঠার স্বাদ উপভোগ করছে আবার কেউ কেউ পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। কর্মব্যস্ততায় বাঙালি যেমন পিঠার স্বাদ উপভোগ করছে সেইসাথে বাঙালির লোকজ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে এসব মৌসুমি পিঠা ব্যবসায়ীরা।
গাজীপুর সদর উপজেলা পিঠা বিক্রেতা লাল মিয়া আকন্দ জানান, আমি প্রতি বছরই পিঠা বিক্রি করি। এতে অল্প কিছু পুঁজি লাগে এবং লাভও হয় ভালো। আমি প্রতিদিন ১২শ’ থেকে ১৫শ’ টাকার পিঠা বিক্রি করি।
পিঠা ব্যবসায়ী মুখলেস বলেন, আমার একটি চায়ের দোকান আছে। সারা বছর চা বিক্রির পাশাপাশি বাড়তি লাভের আশায় শীতের এই কয়েক মাস পিঠা বিক্রি করি।
দোকানে পিঠা খেতে আসা আলামিন বলেন, ছোট বেলায় মায়ের হাতে অনেক রকম পিঠা খেয়েছি। তবে খেজুর গুড়ের গরম গরম ভাপা পিঠার সাদ-গন্ধ আজও মনে পড়ে। এখন চাইলেই তা সম্ভব হয়ে উঠেনা।
একটা সময়ে সারা বছরই গ্রাম-গঞ্জের নারীরা হরেক রকম পিঠা তৈরি করতো। বর্তমান সামাজিকতার ক্ষেত্রে পিঠা তৈরির প্রচলন কমে এসেছে। বাঙালি নারীদের পিঠা তৈরি ছিল একটি শিল্পকর্ম। পিঠার কদর সমাদর ছিল আর আজও আছে এবং থাকবে। হয়তো বাঙালি এ ঐতিহ্য কোনদিনই হারিয়ে যেতে দিবে না।