রাজধানীর পাশ্ববর্তী কেরানীগঞ্জ উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা। সন্ধ্যা নামলেই ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ও জিনজিরা–নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি কাজ ছাড়া সাধারণ মানুষ রাতের বেলায় এসব সড়কে চলাচল করতে ভয় পাচ্ছে।
কালিন্দী, শাক্তা, রোহিতপুর, হযরতপুর, বাস্তা, তেঘরিয়া ও কোন্ডা ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে রাত হলেই হাড়ি-পাতিল, টিউবওয়েল, মোটর, অটোভ্যান ও ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটছে। কৃষক পরিবারগুলোও গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। প্রায়ই বিভিন্ন গ্রামে গরু চুরির ঘটনায় অনেক কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।
হযরতপুর ইউনিয়নের কৃষক জিলানী শেখ বলেন, কিছুদিন আগে তাদের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরি হয়েছে। গত শুক্রবার শাক্তা ইউনিয়নের আটি বাজারে একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। দোকানের মালিক জমসের মিয়া জানান, নামাজ পড়তে যাওয়ার সুযোগে ডাকাত দল তালা ভেঙে ৮৮টি স্বর্ণের আংটি ও ২৫টি গলার চেইন লুট করে নিয়ে যায়।
রোহিতপুর এলাকার ভ্যানচালক হাশেম মিয়া ও কোন্ডার অটোভ্যানচালক সিদ্দীক মোল্লা জানান, সন্ধ্যার পর রাস্তায় নামলেই ডাকাতির আশঙ্কা থাকে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ও যানবাহন ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাই তারা বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন বা সন্ধ্যার পর গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছেন।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অভিযানের প্রস্তুতি চলছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দুটি সান্ধ্যকালীন টহল টিম দায়িত্ব পালন করছে। তবে স্থানীয়রা আরও জোরালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।