হানাদারমুক্ত হওয়ার পর ইসলামপুর থানা চত্বরে প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করেন জালাল কোম্পানির সাহসী কমান্ডার, উত্তর দরিয়াবাদের ফকিরপাড়া গ্রামের কৃতী সন্তান মরহুম শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, যিনি জালাল শাহ ফকির নামে পরিচিত। তাঁর হাতে উত্তোলিত সেই পতাকা ইসলামপুরের মুক্তির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ইসলামপুরসহ সারাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা চালায় নির্মম হত্যাযজ্ঞ, লুটপাট, ধর্ষণ ও অমানবিক নির্যাতন। অসংখ্য মানুষ হারিয়েছেন আপনজন, ঘরবাড়ি হয়েছে ভস্মীভূত। একদিকে মুক্তিযোদ্ধারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে যুদ্ধ করেছেন, অন্যদিকে হাজারো মা-বাবা প্রিয় সন্তানের ফেরার আশায় দিন গুনেছেন। কেউ ফিরেছেন বিজয় নিয়ে, কেউ চিরদিনের মতো শুয়ে আছেন বধ্যভূমিতে।
বিজয়ের ৫৩ বছর পার হলেও ৭ ডিসেম্বর এলেই ইসলামপুরবাসীর মনে ফিরে আসে সেই রক্তাক্ত দিনগুলোর স্মৃতি, হারানোর বেদনা আর মহান বিজয়ের আনন্দ। এই দিনটি শুধু একটি উপজেলার মুক্তির দিন নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন করে স্মরণ করার দিন, লাখো শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানোর দিন।
বিজয়ের এই মাসে সবার প্রত্যাশা-বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাক, মানুষ নিরাপদ থাকুক এবং আগামীর প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জেনে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হোক।