প্রকাশ: রোববার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:১৮ পিএম আপডেট: ০৭.১২.২০২৫ ৫:২৪ পিএম (ভিজিট : ১৪৬)

X
কুমিল্লার বরুড়ায় ৭ ডিসেম্বর বরুড়া মুক্ত দিবস উপলক্ষে বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার ৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় বরুড়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি এর নেতৃত্বে বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়ে পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি আহসান হাফিজ, বরুড়া উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান রনি, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক সর্দার, সহ অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর রাতে মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে পাক সেনারা তাদের ক্যাম্প গুটিয়ে বরুড়া ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। রাতের মধ্যে বরুড়া ঘাটিতে অবস্থানরত পাক সেনাদের সঙ্গে মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে পাকসেনাদের প্রধান ঘাঁটি পতনের মধ্য দিয়ে পরদিন ৭ ডিসেম্বর বরুড়া পাক সেনা মুক্ত হয়।
এদিন ভোরে মুক্তিসেনারা বরুড়া বিভিন্ন এলাকা দিয়ে আনন্দ উল্লাস করে উপজেলা সদরে প্রবেশ করে। তখন বরুড়ায় জনতার ঢল নামে। বরুড়ার আপামর জনগণ দেশের সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরণ করে নেয়। পরে এদিন বিকেলে বরুড়রায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, মিত্রবাহিনী ও জনতার উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক নূরুল ইসলাম মিলন। বটতলী সম্মুখযুদ্ধের পর ধীরে ধীরে বরুড়া শত্রু মুক্ত হতে থাকে। ৭ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা বরুড়া এলাকা সম্পূর্ণভাবে শত্রুমুক্ত করেছিলেন। এইদিন পাকবাহিনীর সদস্যরা তাড়া খেয়ে বিজড়া হয়ে লাকসামের দিকে চলে যায়।
পরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে উপজেলা প্রসাশন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে পয়ালগাছা এলাকার বটতলীতে নির্মিত হয় একটি সম্বলিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ভাস্কর্য।প্রতিবছর এই দিনে বরুড়া মুক্ত দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে থাকেন।