প্রকাশ: রোববার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৫৯ পিএম আপডেট: ০৭.১২.২০২৫ ১০:১৫ পিএম (ভিজিট : ৮২)

X
খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এ সংকটকে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি উল্লেখ করে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের একটি লিখিত প্রস্তাব আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত খাদ্যে দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি মোকাবিলা সংক্রান্ত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, খাদ্যে বিভিন্ন ধরনের দূষণ সম্পর্কে আমরা অবগত এবং নিজেদের ও আগামী প্রজন্মের নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বাস্তবভিত্তিক জরুরি উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৬০ কোটি এবং বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি শিশু খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে একজন বছরে অন্তত একবার অসুস্থ হয় এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মৃত্যুবরণ করে।
তারা আরও জানায়, খাদ্যে ভারী ধাতু, কীটনাশক, তেজস্ক্রিয়তা ও জৈব দূষণের মতো চার ধরনের দূষক থাকতে পারে। পরীক্ষায় বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে অতিরিক্ত মাত্রায় সিসা বা সিসা ক্রোমেটের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। ইউনিসেফের জরিপ অনুযায়ী দেশে সাড়ে ৩ কোটি শিশু সিসা দূষণে আক্রান্ত।
সিসা মানবদেহে প্রবেশ করে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হাড়ে মারাত্মক ক্ষতি করে বলে জানানো হয়। বিশেষত শিশুদের মানসিক বিকাশ এতে গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। বৈঠকে পোল্ট্রি ফার্মে অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার ও কৃষিতে অবৈধ কীটনাশক প্রয়োগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গণমাধ্যম ও পাঠ্যপুস্তকে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি গবেষণা ও নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।