প্রকাশ: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৩৬ পিএম আপডেট: ০৮.১২.২০২৫ ১:৪৬ পিএম (ভিজিট : ৪৭)

X
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে গত বৃহস্পতিবার (৪ডিসেম্বর) ৮ বছরের এক কন্যা শিশুকে ধর্ষনের অভিযোগ উঠে মসজিদের মক্তব শিক্ষক মো: মোজাম্মেল হক(২২) এর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর মোজাম্মেল পালিয়ে যায়। পরে শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেল এবং ৭ ডিসেম্বর রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার খিলগাও থেকে মোজাম্মেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মোজাম্মেল উপজেলার সদর ইউনিয়নের আব্দুল সিকদারের ডাঙ্গী (জামিয়া ইসলামীয়া মারকাজুল উলুম মাদ্রাসার) জামাত বিভাগের একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী ও একই ইউনিয়নের একটি জামে মসজিদের ইমাম। মোজাম্মেল নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর থানার ভরতপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাই এর ছেলে।
থানার অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল ছয়টার দিকে শিশুটি প্রতিদিনের মত ঐ মসজিদে আরবী শিখতে যায়। আরবী পড়ানোর এক পর্যায়ে মক্তব শিক্ষক মোজাম্মেল ওই শিশুকে আলাদাভাবে পড়ানোর কথা বলে মসজিদে রেখে দেয়। প্রায় এক ঘন্টা পর মসজিদ থেকে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা চলে গেলে তাকে টাকার প্রলোভন জোরপূর্বক ধর্ষন করে। মেয়েটি চিৎকার করলে তাকে ছেড়ে দেয় এবং এই ঘটনার কথা কারো কাছে না বলার জন্য তাকে টাকার লোভ দেখায়।
মেয়েটি বাড়িতে এসে তার মাকে সব কিছু খুলে বলে। মেয়েটির মা ঐ মসজিদ কমিটির লোকদের বিষয়টি অবহিত করেন। পরে মসজিদ কমিটি ও ঐ ইমামের মাদ্রাসার শিক্ষকদের কাছ থেকে কোন সুবিচার না পেয়ে শুক্রবার (৫ডিসেম্বর) মেয়েটির মা বাদী হয়ে চরভদ্রাসন থানায় একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করেন।
এই ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ঐ ইমামের মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি শফিউল্লাহ বলেন, ঘটনার দিন সকালে মসজিদ কমিটির সদস্যরা তাকে ফোন করে বলে তাদের মাদ্রাসার এক ছাত্র মক্তবের এক শিক্ষার্থীকে খারাপ ভাবে স্পর্শ করেছে। পরে ঐ শিক্ষার্থীকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে পড়া না পারার জন্য মেয়েটিকে শাসন করে। তারা এ ঘটনার পর মাদ্রাসা থেকে অভিযুক্ত মোজাম্মেলকে বহিস্কার করে দেয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ এনামুল হক ঘটনা সততা নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে মোজাম্মেলকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।