প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:১১ এএম (ভিজিট : ৬২)

X
বদলির আদেশের ১১মাস পার হলেও কর্মস্থল ছাড়েননি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়নকর্পোরেশন (বিএডিসি) নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন। অফিসআদেশ তোয়াক্কা না করে পূর্বের কর্মস্থলে অবস্থান করছেন তিনি।গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উপসচিব ড. কে এম মামুনউজ্জামান স্বাক্ষরিত এক আদেশে প্রকৌশলীকে পাবনা বিএডিসিতে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত ৬ জানুয়ারী ২০২৫ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উপসচিবড. কে এম মামুন উজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে নাটোর (বিএডিসি)নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেনকে পাবনা বিএডিসি প্রকৌশলী হিসেবেবদলি করা হয়। কিন্তু তিনি নানা অজুহাত দেখিয়ে বদলির অফিস আদেশের তোয়াক্কানা করে পূর্বের কর্মস্থলেই অফিস করছেন। এর আগে ক্ষমতার অপব্যবহার করেপ্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন সেচ প্রকল্পে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং ঘুষনেওয়ার অভিযোগ উঠে এ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। উৎকোচ ছাড়া মেলেনা নতুন বরাদ্দ।আবার বরাদ্দকৃত গভীর নলকুপের জন্য দেওয়া পাইবগুলো দেওয়া হয় অতি নিম্নমানের।
যা ব্যবহারের শুরুতেই ফেটে নষ্ট হয়ে যায়।গভীর নলকুপ চালক সোহেল রানা জানান, নাটোরের গুদামরক্ষক আব্দুস সামাদ এতো নিম্নমানের পাইব দিছে যা ভাষায় প্রকাশ করার নয়। আমার ডিপের ১৭৬টি পাইবই ফেটে গেছে। প্রতিটা পাইব পরিবর্তনে অন্তত ৬হাজার টাকা খরচ হয়। লাভের আশায় ডিপ নিয়ে এখন লোকসানের শেষ নাই। অপর চালক শহিদুল ইসলামও একই অভিযোগ করে বলেন পাইব গুলো নিম্ন মানের হওয়ায় প্রায়ই তা ফেটে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে৫০ এর অধিক পাইব পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া তার দূর্নিতীর বিষয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অসংখ্য সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। তথাপি অজ্ঞাতক্ষমতা বলে তিনি স্বপদে নাটোরে এখনো বহাল তবিয়তে।পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান নির্বাহী প্রকৌশলীর মিডিয়াম্যানহিসেবে গুদামরক্ষক আব্দুস সামাদ দায়িত্ব পালন করেন। তার মাধ্যমেই উৎকোচ লেনদেন হয়। কোন সংবাদকর্মী তার বিষয়ে ইন্টারভিউ নিতে গেলে ম্যানেজের চেষ্টাও করেন।
বড়াইগ্রাম উপজলার আহম্মাদপুর এলাকার চাষী হুমায়ন কবির রান্টু বলেন,বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেনকে চাহিত ঘূষ না দেওয়ায় আমাদের নামে বরাদ্দকৃত প্রকল্প আটকে রেখেছিলেন। তাকে ঘুষ দিলে অনিয়মও নিয়ম হয় আর ঘূষ না দিলে নিয়মও অনিয়ম হয়। একই অভিযোগ করেন ওই এলাকার আরও অন্তত ১০জন বয়োবৃদ্ধ কৃষক। সহকারী গুদাম রক্ষক আব্দুস সামাদ বলেন, এগুলো ষড়যন্ত্র। বিএডিসি অফিসে কোন অনিয়ম নেই।
বিএডিসি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কর্তৃপক্ষের সম্মতিনা থাকলে তো এখানে এতোদিন থাকতে পারতাম না। তাদের ইচ্ছাতেই আছি। এছাড়া প্রত্যাহার আদেশ হলেই চলে যাব। তিনি সাংবাদিককে উল্টো প্রশ্ন করেননাটোরের সাংবাদিকরা তো বিষয়টা জানেন। আপনি তাহলে জানেন না?এ বিষয়ে জানতে ডিএডিসি প্রধান কার্যালয়ের সচিবের টেলিফোনে যোগাযোগ করলে তার পিএস শামীম রেজা ফোন রিসিভ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন থেকে পদটিশূন্য রয়েছে। নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলী বিষয়ে জানতে চাইলে তার জানা নাই বলে জানান। বদলী আদেশের পরে আবার প্রত্যাহার আদেশ হয় কি-নাজানতে চাইলে বলেন, এমন কোন বিধান নাই। তাহলে বদলীর পরে ১১ মাস কেমন করে তিনি বহাল আছেন এমন প্রশ্নেও তিনি উত্তর দিতে অপারগত প্রকাশ করেন।