ঈশ্বরদীর শ্রম বিক্রির হাটে বিক্রি হয় কয়েক হাজার শ্রমিক

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

মৌসুমী সবজি চাষে বরাবরই জেলার শীর্ষে অবস্থান উপজেলা শহর ঈশ্বরদীর। ফুলকপি, বাধাকপি, শিম, গাজর, মুলা, পেঁয়াজ ইত্যাদিসহ মৌসুমী

2025-12-09T13:18:03+00:00
2025-12-09T13:18:03+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ঈশ্বরদীর শ্রম বিক্রির হাটে বিক্রি হয় কয়েক হাজার শ্রমিক
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:১৮ পিএম   (ভিজিট : ৭৮)
X

মৌসুমী সবজি চাষে বরাবরই জেলার শীর্ষে অবস্থান উপজেলা শহর ঈশ্বরদীর। ফুলকপি, বাধাকপি, শিম, গাজর, মুলা, পেঁয়াজ ইত্যাদিসহ মৌসুমী সকল সবজিতেই নিজেদের শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে এ অঞ্চলের কৃষকেরা। সেই লক্ষে কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু হয় কৃষি মাঠে কৃষকদের কর্মযজ্ঞ। সেই কর্মযজ্ঞের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন হয় বাড়তি কাজের লোক। যা স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে পূরণ হয়না। সেই বাড়তি লোকের চাহিদা মেটাতেই পার্শ্ববর্তী জেলা নাটোরের লালপুর ও স্থানীয় কৃষকদের সমন্বয়ে বসে জমজমাট শ্রমিক বিক্রির হাট। যেখান থেকে গৃহস্থরা তাদের চাহিদা মত শ্রমিক নিতে পারেন দরকষাকষির মাধ্যমে।

উপজেলা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শহরের রেলওয়ে গেট, সাকড়েগাড়ী এবং ভাড়ইমারী আনন্দ বজারে বসে এই শ্রমিক কেনা বেচার হাট। যেখানে প্রতিদিন ভোর ৫ টা থেকে সকাল ৭ টা পর‌্যন্ত কয়েক হাজার শ্রমিক কেনা বেচা হয় এই বাজার গুলোত। কাজের প্রকার ভেদে এই বাজারে আসা শ্রমিকদের শ্রমমূ্ল্য নির্নয় করেন শ্রমিক আর গৃহস্থ উভয় মিলেই। এসব হাটে প্রতিদিন বিক্রি হয় কয়েক হাজার শ্রমিক।

শ্রম বাজার থেকে শ্রমিক (দিন মজুর) নিতে আসা কৃষক স্বপন বিশ্বাস জানান, মাঠে আমাদের নানা জাতীয় ফসল রয়েছে। এই ফসলের ঠিকঠাক পরিচর‌্যা করতে প্রত্যহ প্রয়োজন হয় শ্রমিকের। আমাদের এলাকাতে শ্রমিকের সংকট থাকায় আমরা এই বাজার থেকে প্রয়োজন অনুসারে শ্রমিক নিয়ে যায়।
কৃষক নাশিদ খান বলেন, এলাকার শ্রমিকদের থেকে শ্রম বাজারে শ্রমিক পাওয়া যায় তুলনামূলক কম দামে। শুধু তাই নয় এখান থেকে চাহিদা অনুসারে দেখে শুনে শ্রমিক নেয়া যায়। প্রত্যহ পাওয়া যায় বলে চাষাবাদে আমাদের নির্ভরতা বেড়েছে বহুগুনে।

কাজে আসা শ্রমিক আবুল হোসেন বলেন, আমাদের এলাকায় (নাটোর, লালপুর) কাজ কম থাকায় আমরা ঈশ্বরদীতে চলে আসি। হাজিরা প্রতিদিন পরিবর্তন হলেও এখানে প্রতিদিনই কাজ মেলে। গৃহস্থরা খেতে দেন বলে খাবার নিয়েও চিন্তা করতে হয়না। শ্রমিক দিদার বলেন, এই বাজারে শ্রম বিক্রির জন্য আমরা বাড়ি থেকে রওনা  দেই শেষ রাতের দিকে। এজন্য আমরা রাত ৩ টা থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিই । সকালে খাবার জন্য চিড়া মুড়ি সঙ্গে নিয়ে বাইসাইকেল যোগে আমরা এখানকার শ্রমিকের বাজারে এসে হাজির হই ভোর ৫ টা থেকে। 

শ্রমিক শুকুর মিঞা বলেন, কতদিন সন্তান গুলোরে দৌঁড়াতে দেখিনি। কারন কামের জন্য সেই ভোর রাতে যখন রওনা দেই তখন বাচ্চারা ঘুমায়ে থাকে। আবার সন্ধ্যায় কাম শ্যাস করে যখন বাড়িতে যায় তখনও তারা ঘুমিয়ে পরে। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, সকালের শ্রমিকদের এই হাট নিঃসন্দেহে অত্রাঞ্চলের কৃষকদের জন্য আর্শিবাদ স্বরুপ। কেকনা শ্রমিক সংকটের এই বাজারে অন্য জেলার শ্রমিকদের সমন্বয়ে বসা এই হাটের জন্য আমাদের এলাকার কৃষক ভাইয়েরা সহজেই কাজের জন্য শ্রমিক পাচ্ছে। যেটা তাদের ফসল উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy