
অভ্যুত্থানের পরবর্তী ১৬ মাসে খুলনায় হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। খুলনা নগরীতে ৪৮ এবং জেলায় আরও ৪৭—মোট ৯৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে এ সময়ে। সন্ধ্যা নামলেই নগরীতে নেমে আসে আতঙ্ক। পুলিশের তথ্য বলছে, সক্রিয় অন্তত ছয়টি সন্ত্রাসী বাহিনী এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ব্যর্থ তদন্তের কারণে বিদায় নিয়েছেন কেএমপি কমিশনার মো. জুলফিকার আলি হায়দার। খুলনায় নতুন করে দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা প্রশাসক আ স ম জামসেদ খোন্দকার এবং জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। দু’জনই জানিয়েছেন—আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দমনে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, আর্থিক অনিয়মেও নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অপরাধ শাখা জানায়, ১৬ মাসে নগরীতে হওয়া ৪৮টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৩৪ শতাংশ মাদক ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে। বাকিগুলো ঘটেছে প্রেমঘটিত বিরোধ, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রতিশোধ, চুরি বা ব্যক্তিগত রেষারেষিতে।
গত পাঁচ মাসে মহেশ্বরপাশা এলাকায় ঘটে চারটি খুন- ১১ জুলাই: যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান মোল্লা খুন, ৩ আগস্ট: ঘের ব্যবসায়ী আলামিন হাওলাদার খুন, ১ অক্টোবর: তানভীর হাসান শুভ খুন ও ২ নভেম্বর: ভুলবশত গুলিতে এমদাদুল হক নিহত।
এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশ মামলাতেই এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ- একটির বিচারহীনতা আরও হত্যার পথ তৈরি করেছে।
৩০ নভেম্বর মহানগর ও দায়রা জজ আদালতের সামনে দিনে-দুপুরে গুলি ও কুপিয়ে খুন করা হয় দুই যুবক হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজনকে। কয়েক সপ্তাহ আগে করিমনগরে বাড়ির ভেতরে ঢুকে খুন করা হয় আলাউদ্দিন মৃধাকে। একই দিন লবণচরায় দুই শিশু ও তাদের নানীকে ভাড়াটে খুনির হাতে প্রাণ হারাতে হয় জমি বিরোধের জেরে।
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত খুলনা অঞ্চলের নদ–নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫০টি মরদেহ। এসবের অনেকগুলোর পরিচয় আজও অজানা।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, মাদক ও আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষই অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। তার মতে, দুর্বল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে খুনের সংখ্যা কমছে না।
এদিকে গত মঙ্গলবার নতুন জেলা প্রশাসক আ স ম জামসেদ খোন্দকার ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে বলেন আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী শেষ করা হবে। আগামী নির্বাচন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এ দু' শীর্ষ কর্মকর্তা। নিজেদের আর্থিক ভাবে সৎ দাবি করে বলেন, অবৈধ ইট ভাটাসহ কোন প্রকার আর্থিক অনিয়ম পেলে তার বিরুদ্ধে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নির্মূলে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আশা প্রকাশ করেন। তবে খুলনাবাসী কথায় নয় কাজে এর প্রমান দেখতে মুখিয়ে আছে।