
ফুলবাড়ী আন্দোলন কেবল কয়লা রক্ষার জন্য নয়; এটি বাংলাদেশের পরিবেশ, কৃষি, পানিসম্পদ এবং মানবাধিকারের সুরক্ষার এক ঐতিহাসিক গণআন্দোলন এ মন্তব্য করেছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখা। বুধবার দুপুরে ফুলবাড়ীর নীমতলা মোড়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বক্তব্য দেন কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সম্প্রতি সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফুলবাড়ী কয়লাখনি নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা জনমানুষের আন্দোলনকে অপমান ও ওপেন-পিট খনির পক্ষে পক্ষপাতমূলক সাফাই। তিনি এটিকে “জাতীয় সম্পদ লুটপাটতন্ত্র আড়ালের অপচেষ্টা” বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে আগামী ১৭ ডিসেম্বর লন্ডনে এশিয়া এনার্জি (জিসিএম)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা উপলক্ষে প্রতিবাদ সভার ঘোষণা দেন।
জুয়েল জানান, ২০০৬ সালের ফুলবাড়ী চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এশিয়া এনার্জির প্রস্তাব ছিল দেশের জন্য ক্ষতিকর। সেখানে রয়্যালিটি ছিল মাত্র ৬ শতাংশ এবং উত্তোলিত কয়লার বেশিরভাগই রপ্তানির জন্য নির্ধারিত ছিল। তার ভাষায়, “এটিকে উন্নয়ন বলা যায় না; এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ পাচারের সামিল।”
তিনি আরও বলেন, প্রেস সচিবের বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং ২০০৬ সালের ৩০ আগস্টের ফুলবাড়ী ৬ দফা চুক্তি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি লন্ডনে বাংলাদেশের কয়লাখনি দেখিয়ে শেয়ার ব্যবসা বন্ধ করা, এশিয়া এনার্জিকে দেশে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে বড়পুকুরিয়ার উত্তরাংশে ওপেন-পিট খনির পরিকল্পনা বাতিল এবং জাতীয় কমিটির বিকল্প জ্বালানি মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার নেতা জয় প্রকাশ গুপ্ত, এসএম নুরুজ্জামান, হামিদুল হক, সঞ্জিত প্রসাদ জিতুসহ অন্যরাও উপস্থিত ছিলেন।