জলবায়ু অর্থায়ন হতে হবে ন্যায্য, জনগণকেন্দ্রিক ও সক্ষমতা-ভিত্তিক: পরিবেশ উপদেষ্টা

কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, বিশেষ প্রতিনিধি

জাতীয়

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, জলবায়ু অর্থায়ন সংস্কারে

2025-12-10T20:02:14+00:00
2025-12-10T20:02:14+00:00
বুধবার ৫ আগস্ট ২০২৬ ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার ৫ আগস্ট ২০২৬
   
জলবায়ু অর্থায়ন হতে হবে ন্যায্য, জনগণকেন্দ্রিক ও সক্ষমতা-ভিত্তিক: পরিবেশ উপদেষ্টা
কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:০২ পিএম   (ভিজিট : ৫৬)
X

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, জলবায়ু অর্থায়ন সংস্কারে অবশ্যই স্থানীয় জনগণের চাহিদা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, “দ্রুত তহবিল বিতরণ, সঠিক পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সুরক্ষায় সক্ষম তহবিল কাঠামোই এখন জরুরি।” 

আজ রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত “বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু অর্থায়ন কৌশল প্রণয়ন” শীর্ষক পরামর্শ কর্মশালার প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালায় সরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী এবং জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি মূলত “নতুন ও অতিরিক্ত” সহায়তার নীতির ভিত্তিতে গঠিত হয়েছিল। “সময়ের সাথে সেই প্রতিশ্রুতি শিথিল হয়েছে। জলবায়ু সংকটে দায়ী অনেক উন্নত দেশ এখনো বৈজ্ঞানিক সত্য অস্বীকার করে। এই অস্বীকার জলবায়ু অর্থায়নকে জটিল ও অন্যায্য করে তোলে,” মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, কয়েকটি দেশ প্রতিশ্রুতি পালন করলেও অনেকে জলবায়ু আলোচনাকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে।

দেশীয় পরিস্থিতিতে তিনি অসম বাজেট বরাদ্দের বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “প্রতিবছর পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সর্বনিম্ন বাজেট বরাদ্দ পায়, অথচ বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। অভিযোজন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় পর্যায়ের স্থিতিস্থাপকতা পর্যাপ্ত অর্থায়ন পায় না।” স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও কার্যকর জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা না থাকার বিষয়েও তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “শুধু অর্থ দিলেই হবে না। সংস্থাগুলোর পরিকল্পনাগত দক্ষতা, কর্মী সক্ষমতা এবং দ্রুত বাস্তবায়ন ব্যবস্থা থাকতে হবে। সচেতনতামূলক সামগ্রী প্রকাশ করতেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়। প্রক্রিয়াই যদি লক্ষ্য হয়ে যায়, তবে ফলাফল ক্ষতিগ্রস্ত হবেই।” তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রসঙ্গে তিনি Bangladesh Climate Development Partnership (BCDP)–এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “BCDP-কে কেন্দ্রীয় সমন্বয় প্ল্যাটফর্ম হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। দেশীয় অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, প্রকল্প উন্নয়ন এবং তদারকি—এই চার ওয়ার্কিং গ্রুপের মধ্য দিয়ে কৌশলগত দিকনির্দেশনা তৈরি হওয়া উচিত।” তিনি জানান, এ সংক্রান্ত সচিবালয়ের জন্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম, দক্ষ মানবসম্পদ এবং কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি জানান যে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে প্রবেশাধিকার প্রক্রিয়া পুনর্গঠিত হয়েছে এবং এখন বেসরকারি সংস্থাগুলো প্রাসঙ্গিক মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে আবেদন করতে পারবে। “এতে একদিকে সরকারি সংস্থা মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা পাবে, অন্যদিকে নাগরিক সমাজ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অর্থবহ ভূমিকা রাখতে পারবে,” বলেন তিনি।

ন্যায্য বরাদ্দের বিষয়টি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, “নদীভাঙন এলাকা, লবণাক্ততা অঞ্চল এবং খরাপ্রবণ এলাকায় শত শত আবেদন আসে, কিন্তু অল্প কিছু সমর্থন সম্ভব হয়। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী রক্ষায় বিনিয়োগ অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি ফলপ্রসূ, নতুন সড়ক নির্মাণের চেয়ে।” অপ্রাসঙ্গিক খাতে—বিশেষ করে প্রতিরক্ষা—খরচকে জলবায়ু অর্থায়ন হিসেবে দেখানো হলে “দায়বদ্ধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়” বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পরে মানবাধিকার দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত “সবার জন্য ন্যায়বিচার ও অধিকার নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের অঙ্গীকার” শীর্ষক অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকার ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে এখন নবগঠিত পুলিশ কমিশন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—যা পূর্বে ছিল না। সঠিক ব্যক্তি নেতৃত্ব দিলে এটি একটি বড় অর্জন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “আমরা পুলিশের ক্ষেত্রে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পেরেছি। বন ও পরিবেশ অধিকার রক্ষাতেও অগ্রগতি হয়েছে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেশকে কীভাবে পরিচালনা করবে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তবে অন্তত মত প্রকাশের যে পরিসর তৈরি হয়েছে, তাতে একতরফা সিদ্ধান্ত নেয়া আগের মতো সহজ থাকবে না।” তিনি আরও বলেন, আইনি কাঠামো তৈরি হচ্ছে এবং সরকারের লক্ষ্য সবার সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান; জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও সংসদ বিভাগ সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।





Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : bulletinadbd@gmail.com
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy