
X
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলা সুপ্রীম কোর্টের প্রশাসনিক ভবন-৪ (সুপ্রীম কোর্ট জামে মসজিদ সংলগ্ন) এ অবস্থিত সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধনকালে প্রধান বিচারপতি আজকের দিনটিকে একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, আজকের এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে আমাদের সকলের সমন্বিত সহযোগিতা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে।
তিনি বলেন, সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিচারকাজ ও বিচারব্যবস্থা পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা সুপ্রীম কোর্টের হাতে ন্যাস্ত হয়েছে। আজ থেকে এর সাফল্য যেমন আমরা উপভোগ করবো তেমনি এর ব্যর্থতার দায়ভারও আমাদের উপর বর্তাবে। আগামীতে সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের যাত্রা যেন অটুট থাকে এই জন্য তিনি রাজনৈতিক দলসহ সকল অংশীজনের প্রতি আহবান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আপীল বিভাগের বিচারপতি মহোদয়বৃন্দ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব ড. আসিফ নজরুল, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত, ইউএনডিপির রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ, বাংলাদেশের বিজ্ঞ এটর্নি জেনারেল, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান, সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব, আইন মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব, আমন্ত্রিত বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ এবং সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় ও সুপ্রীম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রীম কোর্টের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়। গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি. তারিখ রোজ রবিবার মহামান্য রাষ্ট্রপতির নির্দেশে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। গত ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রি. তারিখ বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল জনাব মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দকী-কে সপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। একইদিন আপীল বিভাগের মাননীয় বিচারপতি জনাব মোঃ আশফাকুল ইসলাম মহোদয়-কে সভাপতি করে ০৮(আট) সদস্য বিশিষ্ট একটি "পদ সৃজন" কমিটি গঠন করা হয়। যে কমিটির প্রথম সভায় (০৭ ডিসেম্বর ২০২৫খ্রি.) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের দাপ্তরিক কাজ সম্পাদনের নিমিত্ত ৪৮৯ কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মচারী পদ সৃজন সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে গত ১০ ডিসেম্বর আপীল বিভাগের মাননীয় বিচারপতি জনাব রেজাল্ট হক মহোদয়-কে সভাপতি করে ০৮(আট) সদস্য বিশিষ্ট একটি "উন্নয়ন ও পরিকল্পনা" কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ আজ মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয় সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য নব-গঠিত কার্যালয় উদ্বোধন করলেন।
এর আগে একইদিন একটি ডেডিকেটেড "সুপ্রীম কোর্ট হেল্পলাইন সেন্টার" অফিস উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি মাননীয় বিচারপতি জনাব ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ মহোদয়। দুপুর ৩:০০ ঘটিকায় বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের মূল ভবনের দ্বিতীয় তলার দক্ষিণ-পশ্চিম কর্ণারে (পূর্বের হাইকোর্টের ডেস্পাস শাখা) অবস্থিত আধুনিক এই "সুপ্রীম কোর্ট হেল্পলাইন সেন্টার" উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধান বিচারপতি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতির নির্দেশে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বিগত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রি. তারিখে সুপ্রীম কোর্টে প্রথমবারের মত হেল্প লাইন সেবা চালু করে। মূলত, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টে আগত কোনো বিচারপ্রার্থী বা সেবাগ্রহীতা সুপ্রীম কোর্ট রেজিস্ট্রির কোনো শাখায় সেবা গ্রহণে যে কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হলে বা সেবা গ্রহণ সংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে অসুবিধার মুখোমুখি হলে উক্ত সেবাগ্রহীতাকে সহায়তা করার নিমিত্ত হেল্পলাইন নাম্বারটি চালু করা হয়। সুপ্রীম কোর্ট হেল্পলাইন সার্ভিস চালুর পর ব্যাপক সাড়া মিলে। চাহিদার দিকটি মাথায় রেখে বিগত ০৫ জানুয়ারি ২০২৫ খ্রি. তারিখ দ্বিতীয় হেল্পলাইন নাম্বার চালু করে সুপ্রীম কোর্ট প্রশাসন। এরপর সারা দেশের ৬৪ টি জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং ০৮ টি মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ সার্ভিস চালু করা হয়।