প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩১ এএম আপডেট: ১২.১২.২০২৫ ১০:৪০ এএম (ভিজিট : ১২৯)

X
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টা ধরে চলা শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানের করুণ সমাপ্তি ঘটেছে। গভীর নলকূপের ৫০ ফুট গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছর বয়সী শিশু সাজিদকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা শিশুটিকে উদ্ধারের পর দ্রুত তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বার্নাবাস হাসদা নিশ্চিত করেছেন যে, শিশু সাজিদকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। তিনি জানান, অতিরিক্ত ঠান্ডা এবং অক্সিজেনের অভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়।
অন্য একজন মেডিকেল অফিসার উল্লেখ করেন, শিশুটির পালস (নাড়ির স্পন্দন) এবং ব্লাড প্রেশার (রক্তচাপ) ছিল না। ইসিজি করার মাধ্যমে তার অবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, "আমরা শিশু সাজিদকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করি। তার দেহ ধরে আমরাও কিছুক্ষণের জন্য আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর পর জানতে পারি সে মৃত।"
তিনি এই অভিযানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও ভিন্ন প্রকৃতির উল্লেখ করে বলেন, "এটি সাধারণ কোনো উদ্ধার অভিযান ছিল না। পাইপটির ব্যাস ছিল মাত্র ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি। স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগে আবেগের বশবর্তী হয়ে উদ্ধারের চেষ্টা করায় হিতে বিপরীত হয়। তাদের চেষ্টার ফলেই পাইপের ভেতরে প্রচুর মাটি ও খড়কুটো পড়ে যায়, যার কারণে শিশু সাজিদ মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়।"
গতকাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সাজিদ তার মা-বাবার সাথে জমিতে মাটি নিয়ে আসার সময় আটকে যাওয়া একটি ট্রলি দেখতে গিয়েছিল। খেলার ছলে শিশুটি মায়ের কোল থেকে নেমে হাঁটার সময় পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয়। এরপর থেকে ফায়ার সার্ভিসের দল দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টা ধরে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য কাজ করে।