
X
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট মধ্যপাড়া গ্রামের শিশু সাজিদকে (২) শেষ বিদায় জানাতে এলাকার হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিল। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে তার বাবার বাড়ির পাশের একটি ফাঁকা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় তার জানাজা।
শুক্রবার সকাল থেকেই কোয়েলহাট গ্রামের পরিবেশ ছিল ভারী। মসজিদের মাইকে বারবার ভেসে আসছিল রাকিব উদ্দীনের শিশুপুত্র সাজিদের মৃত্যুর ঘোষণা। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে যেন থেমে গিয়েছিল গ্রামের স্বাভাবিক জনজীবন। মাঠে কাজ করা বা দোকানপাট খোলার আগ্রহ ছিল না কারও।
গ্রামের মানুষজন পাঞ্জাবি আর টুপি পরে ধীর পায়ে সাজিদের বাড়ির দিকে রওনা হন। তারা শেষবারের মতো দেখতে চেয়েছিলেন সেই নিষ্পাপ মুখটি, যা প্রতিদিন হাসিতে উজ্জ্বল থাকতো, আজ সেখানে নেমে এসেছে চিরন্তন নীরবতা।
সকাল সাড়ে ১০টায় নেককিড়ি কবরস্থানের সামনের মাঠে জানাজার সময় নির্ধারিত ছিল। গ্রামের প্রবীণ থেকে স্কুলপড়ুয়া ছেলে পর্যন্ত সব বয়সের মানুষের ঢল নামে জানাজার মাঠে। সবার চোখ ছিল অশ্রুসজল। ফিসফিস করে একজন আরেকজনকে বলছিলেন, "আল্লাহ, এমন পরিণতি যেন কারও না হয়।"
সাজিদের ছোট্ট, সাদা কাপড়ে মোড়ানো দেহটি যখন নিয়ে আসা হলো, চারপাশ থেকে তখন কান্নার রোল উঠলো। শোকে কাতর সাজিদের মা বারবার ছুটে আসতে চাইছিলেন, তার আহাজারি উপস্থিত সবার হৃদয়কে স্পর্শ করে। মানুষজন তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন, কিন্তু কান্না থামানোর ক্ষমতা ছিল না কারও।
কাজী মাওলানা মিজানুর রহমান জানাজার ইমামতি করেন। ইমাম সাহেব তাকবির দিয়ে যখন দোয়া শুরু করলেন, তখন সবাই হাত তুলে শিশুর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সাথে আল্লাহ যেন সাজিদের পরিবারকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্যধারণের শক্তি দেন, সেই প্রার্থনাও করা হয়।
জানাজায় স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা এবং সাধারণ মানুষজনও অংশ নেন। জানাজা শেষে সাজিদের কফিন যখন কবরের দিকে নেওয়া হলো, মনে হলো যেন বাতাসও স্তব্ধ হয়ে গেছে। শুধু স্বজনদের আর গ্রামবাসীর কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। পুরো গ্রামের অংশগ্রহণে একটি শিশুর এমন বিদায়—এই দৃশ্য কোয়েলহাটবাসী আগে কখনো দেখেনি।
উল্লেখ্য, শিশু সাজিদ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে একটি গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা টানা ৩২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে প্রায় ৫০ ফুট মাটি খুঁড়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। তবে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।