প্রকাশ: রোববার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:২৫ পিএম (ভিজিট : ১১৭)

X
কর্তৃপক্ষের কোন নির্দেশনা না থাকায় পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরণে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ‘দূর্জয়’ পাবনার তালা খোলা হয়নি। শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পনের জন্য সকাল সাড়ে ৭টায় পদযাত্রা নিয়ে স্মৃতিসৌধের সামনে উপস্থিত হন পাবনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকেরা। এ সময় স্মৃতিসৌধের বাইরে ও ভেতরে চারটি তালা লটকানো ছিলো।
সাংবাদিকদের দাঁড়িয়ে থাকা দেখতে পেয়ে দূর থেকে ছুটে আসেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস স্টাফ ওয়াজেদ মিয়া ও আরদালী সুজন মিয়া। সাংবাদিকরা গেটের বাইরে পুস্পস্তবক অর্পন করতে গেলে কিছুক্ষণ পর এক ঝোপা তালার চাবি নিয়ে হাজির হন একজন কর্মচারি।
ওই আরদালী সাংবাদিকদের বলেন, আজ কোন দিবস আছে সেটা তার জানা নেই। আর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এমন কোন নির্দেশনা আমাকে দেয়া হয়নি। যে কারনে এটার তালা খোলা হয়নি। এখন খুলে দিচ্ছি, আপনারা ফুল দিয়ে যান।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্টাফ ওয়াজেদ মিয়া বলেন, এটা আমাদের চেতনার ব্যাপার। বুকে ও মনে ধারণ ও লালন করি। আমি নিজেও ছুটে এসেছি। কিন্তু কর্মচারীদের কেন জানানো হয়নি আর খোলা রাখা হয়নি ব্যাপারটা আমার জানা নেই।
পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, এমন সময় বা এমন দৃশ্য দেখতে হবে এটা মাথায় আসেনি। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এ দেশকে মেধাশুন্যের উদ্দেশ্যে বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস। অথচ আমাদের সেই চেতনার আজ এই অবস্থা। তিনি বলেন, আমি মনে করি জেলা প্রশাসনের এটা চরম দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতা।
পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, এটা কেমন কথা। তার মানে জেলা প্রশাসন কি শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস আজ সেটা জানে না, নাকি জেনে পালন করবে না এবং অন্যদের পালনে নিরুৎসাহিত করতে এমনটি করেছে। তীব্র প্রতিবাদ জানালাম এমন কান্ডে।
পাবনা অন্নদা গোবিন্দা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতীন খান বলেন, সকাল আটটায় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যাই দূর্জয় পাবনা স্মৃতিসৌধে। কিন্তু ভিতরের দরজা তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। কেন কি জন্য তালা দেয়া ব্যাপারটা বুঝতে পারিনি, ভালোও লাগেনি।
বুকে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি লালান ও ধারণকারী একাধিক জনের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, ২৪'র পর বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস একেবারেই তলানীতে গিয়ে আটকে আছে। যে কোন সময় তলানী শুন্য হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। রোববার শুধুমাত্র পাবনা প্রেসক্লাব, অন্নদা গোবিন্দা পাবলিক লাইব্রেরি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবসে। এটা চেতনা নয় এটা আমাদের লজ্জার ব্যাপার।
এ বিষয়ে পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বিষয়ে তার কিছু বলার নেই। তিনি স্যার (জেলা প্রশাসকের) সঙ্গে কলা বলার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেমে দিলেও কোন উত্ত পাওয়া যায়নি।