প্রকাশ: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:৩৫ পিএম (ভিজিট : ৩৩)

X
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় শীতার্ত ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তীব্র শীতের কারণে মানবেতর জীবনযাপন করা চার শতাধিক শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে শীতজনিত কষ্ট যাতে কিছুটা লাঘবের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে ঢেমশা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মাঝে এ শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
প্রথমে সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধিদল স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করেন। পরে ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে শীতার্ত মানুষের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।
শীতবস্ত্র বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, সাতকানিয়া সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার সাব্বির আহাম্মেদ সানি, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার কামরুজ্জামান, সার্জেন্ট মাহফুজ আলম ও ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহেরসহ স্থানীয় ইউপি সদস্যবৃন্দ।
শীতবস্ত্র পেয়ে প্রতিবন্ধী ফোরক মিয়া সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রচণ্ড শীতে যখন পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে কষ্টে দিন কাটছিল, তখন সেনাবাহিনীর এ সহায়তা আমাদের মতো মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। আমরা সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ।
ঢেমশা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, সেনাবাহিনীর এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম সামাজিক দায়িত্ববোধকে আরও জোরদার করেছে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, প্রতিবছর শীত মৌসুমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেশি দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। এ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।
সাতকানিয়া সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার সাব্বির আহাম্মেদ সানি বলেন, দেশের যে কোনো দুর্যোগ ও সংকটময় সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব। শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবের লক্ষ্যে এ পর্যায়ে চার শতাধিক শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।