মির্জাপুরে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। ধর্ষণের চেষ্টাকালে ওই গৃহবধূ কৌশলে পালিয়ে রক্ষা পান। গত শনিবার বিকেলে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ গতকাল রাতে আজাহার মিয়া (৪২) ও রাজিব মিয়া (৩৫) নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ বলেন, ৫ মাস বয়সী একমাত্র সন্তানকে নিয়ে শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। এ সময় গোড়াই এলাকার স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী আজাহার মিয়া (৪২) ও রাজিব মিয়া (৩৫) তার কক্ষের দরজা খুলতে বলেন। ঘরে পরপুরুষ রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে তারা ওই নারীর শয়নকক্ষে প্রবেশ করেন। আশপাশের লোকজন জড়ো হলে তারা তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদায় করে দেন।
এরপর শিশুকে জিম্মি ও শিল্প কারখানায় কর্মরত স্বামীকে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে শ্লীলতাহানি ঘটান তারা। কিন্তু ওই নারী জন্মনিরোধক আবরণ আনার কথা বলে কৌশলে ঘর থেকে বের হয়ে ধর্ষণের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন অভিযুক্তরা। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক নারী দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছি।
স্থানীয়রা বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা এভাবেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে। সন্ধ্যার পর মদ পান করে এলাকায় রংবাজি করাই তাদের কাজ।
বাসার মালিক আহম্মদ আলী বলেন, আমি বাসা করার শুরু থেকেই অভিযুক্তরা নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন করতো। এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। আমার বাসার ভাড়াটিয়ার সঙ্গে যা হয়েছে তা শতভাগ সত্য।