প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৩৪ পিএম (ভিজিট : ১৭৬)

X
মঙ্গলবার সকালে প্রতিদিনের মতো স্বামীর কবরের পাশে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্যের মুখোমুখি হন আব্দুল মান্নান খানের স্ত্রী মাহফুজা বেগম। কবরের ওপর পোড়া ছাই ও আগুনের চিহ্ন দেখে তিনি চিৎকার দিলে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তখনও পোড়া ছাই থেকে হালকা ধোঁয়া উঠছিল।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরের ওপর আগুন দেওয়া হয়েছে। গভীর রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কবরের ওপর পাটখড়ি ও কাঠ জড়ো করে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পরিবারের।
নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান খান ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেন। ২০১০ সালের ৮ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাড়ির বসতঘরের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান খানের মেয়ে আফরোজা আক্তার বলেন, ‘মায়ের চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি বাবার কবরের একাংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এটা কারা, কী উদ্দেশ্যে করেছে বুঝতে পারছি না। আমরা পরিবার হিসেবে ভীষণভাবে মর্মাহত ও আতঙ্কিত।’
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নেতাদের জানিয়েছেন আফরোজা আক্তার।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কবরের পাশে স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড়। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মাহফুজা বেগম।
চোখের পানি মুছতে মুছতে মাহফুজা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। তাঁর কবরের সঙ্গে এমন অবমাননা কেউ কীভাবে করতে পারে? বিজয়ের মাসে এমন ঘটনায় আমরা পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছি। এর বিচার চাই।’
শরীয়তপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল জলিল সিকদার বলেন, ‘একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর অবমাননার খবর আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘কবরে আগুন দেওয়া, মানে একটা মানুষের ওপর আগুন দেওয়া। জানি না কতটুকু কী, আমরা এটা দেখছি।’