আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির দ্বিতীয় দফা মনোনয়ন ঘোষণাকে ঘিরে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে ব্যাপক বিতর্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তে আনোয়ারুল ইসলাম আনুকে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে আপত্তি জানাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, তিনি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রতিনিধিত্ব করেন না।
এর আগে বিএনপি প্রথম দফায় ২৩৭টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে। প্রথম দফার পর বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন বঞ্চিতরা আন্দোলনে নামলেও দ্বিতীয় দফা ঘোষণার পর সেই অসন্তোষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। নাটোর-৩ আসনেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ছত্রছায়ায় ছিলেন আনোয়ারুল ইসলাম আনু। তিনি বিএনপির কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন না; বরং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে পলকের পাশে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আনোয়ারুল ইসলাম আনুর মাধ্যমে নৌকা উপহার দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব কারণে তাকে ‘নৌকার দোসর’ আখ্যা দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দাউদার মাহমুদকে দীর্ঘদিনের ত্যাগী, নির্যাতিত ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে মনোনয়নের দাবি জানানো হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুন নেছা পুতুল বলেন, গত ১৬ বছরে দাউদার মাহমুদ অসংখ্য মামলা ও হামলার শিকার হলেও বিএনপির আদর্শ থেকে সরে যাননি এবং সবসময় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। অথচ আনোয়ারুল ইসলাম আনু কখনও আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন না।
মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে সিংড়ায় উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ, সভা ও মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারাও আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন। অনেক সাধারণ ভোটার জানিয়েছেন, আনুকে প্রার্থী রাখা হলে তারা ধানের শীষে ভোট দেবেন না; কেউ কেউ ভোটকেন্দ্রেই না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে দাউদার মাহমুদকে প্রার্থী করা হলে তারা পরিবার-পরিজনসহ ধানের শীষে ভোট দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের আশঙ্কা, দ্রুত মনোনয়ন পরিবর্তন না হলে নাটোর-৩ আসনে বিএনপির ভরাডুবি হতে পারে এবং সুযোগ নিতে পারে জামায়াতসহ অন্যান্য দল। এ অবস্থায় তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।