
X
সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) তার বড় ভাই ওমর বিন হাদি ফোনে একটি গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। বড় ভাই ওমর তার সঙ্গে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। তিনি শরিফ ওসমান হাদিকে আজ সকালে সবশেষ দেখার সুযোগ পান।
এদিকে গতকাল রাতে হাদির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। পরে হাদির প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেইজে রাত ১১ টা ২১ মিনিটে দেওয়া পোস্টে বলা হয়, ‘ওসমান হাদি ভাইয়ের অবস্থা সংকটাপন্ন। কিন্তু তার মৃত্যুর যেই সংবাদ শোনানো হচ্ছে সেটি সত্য নয়। পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। আল্লাহ যেন তাকে হায়াতে তাইয়িবা নসিব করেন।’
এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় ঢাকায় হাদির চিকিৎসায় সংযুক্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের (এনএইচএ) সদস্যসচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ বলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদির চিকিৎসা সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালেই চলবে এবং আপাতত কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্ট অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রতিদিন তার বিভিন্ন ইনভেস্টিগেশন করা হচ্ছে। তবে সামগ্রিকভাবে তার শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।’
তিনি জানান, ‘বুধবারও শরিফ ওসমান হাদির সিটিস্ক্যান করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, তার ব্রেনে যে ইস্কেমিয়া (রক্ত সঞ্চালনজনিত সমস্যা) ছিল, তা কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে হার্ট, ফুসফুস ও কিডনি ভেন্টিলেশন সাপোর্টের মাধ্যমে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ইউরিন আউটপুটও আগের মতোই সাপোর্টের মাধ্যমে বজায় রয়েছে। হাদির ব্রেনে গুলির একটি ছোট অংশ এখনও রয়ে গেছে। সেটি অপসারণে নতুন করে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হবে কি না এবং সে ক্ষেত্রে তাকে যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হবে কি না এসব বিষয় নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।’
ডা. আহাদ বলেন, ‘যে জায়গায় গুলির অংশটি রয়েছে, সেখানে অপারেশন করলে নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে কিনা, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। পাশাপাশি তার শরীর এই মুহূর্তে দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল নিতে পারবে কি না, সেটিও চিকিৎসকেরা মূল্যায়ন করবেন। এ ক্ষেত্রে পরিবারের ইচ্ছার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।’
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাফর, ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদির মধ্যে এক জরুরি কল কনফারেন্সে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। গত দুদিন ধরে ওসমান হাদির চিকিৎসার জন্য সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার কয়েকটি হাসপাতালে যোগাযোগ করেছে। আজ এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের পরামর্শে ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, বর্তমানে ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং অপরিবর্তিত রয়েছে। আগামীকাল দুপুরে ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মেডিকেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক দল এবং ভ্রমণসংক্রান্ত সব প্রস্তুতি এর মধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের অ্যাক্সিডেন্ট ইমার্জেন্সি বিভাগে তার চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে জানিয়ে বলা হয়, তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া ও প্রার্থনা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।