গাজীপুর: শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষার ভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর

সারাবাংলা

গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া ও আউটপাড় মহল্লার সীমান্তবর্তী জৈনুদ্দিন সরকার বাড়ি এলাকায় চলাচলকারী সিটি করপোর্রেশনের পাকা রাস্তাটি সারা বছরই

2025-12-19T20:49:32+00:00
2025-12-19T20:49:32+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
গাজীপুর: শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষার ভোগান্তি
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৪৯ পিএম   (ভিজিট : ৮৮)
X

গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া ও আউটপাড় মহল্লার সীমান্তবর্তী জৈনুদ্দিন সরকার বাড়ি এলাকায় চলাচলকারী সিটি করপোর্রেশনের পাকা রাস্তাটি সারা বছরই জলমগ্ন থাকে। শীত—গ্রীষ্মে সেখানে বর্ষাকালের মতো পানি থৈ থৈ করে আবাসিক এলাকার গৃহস্থালী কাজে ব্যবহৃত পানি ছাড়াও গোসলখানা ও টয়লেটের নোংরা পানিতে সড়কের পাশে থাকা অগভীর ও সরু ড্রেনটি উপচে সড়কে জমে গিয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। 

এজন্য ওই পথ ব্যবহারকারী এলাকাবাসীকে সারা বছরই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় ওই এলাকা থেকে (পাকা দালানের) ভাড়াটিয়ারাও অন্যত্র চলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সময় এলাকাবাসী এ ব্যাপারে অভিযোগ জানালেও গাজীপুর সিটি করপোরেশন কার্যকরী ও স্থায়ী কোন পদক্ষেপ না নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই সড়কের আশেপাশে থাকা বাড়ির ভাড়াটিয়ারাও এ দূর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। 

স্থানীয় মাদ্রাসাতুন নূর আল—আরাবিয়্যাহ শিক্ষক মো. সফিউল্লাহ জানান, মাদ্রাসায় যাতায়তের এ রাস্তায় সবসময় পানি থাকার কারণে আমাদের শিক্ষর্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ পরিবেশের কারণে নতুন শিক্ষার্থীও আর ভর্তি হচ্ছে না। প্রতিদিন ময়লাযুক্ত নোংড়া পানি মাড়িয়ে চলতে গিয়ে ছাত্র—ছাত্রী ও অভিভাবকদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেক গরীব মানুষের সন্তানরা এখানে লেখা পড়ান করে । কিন্তু এ নোংড়া পানিতে তারা সবসময় ঠান্ডা, সর্দি জ¦রে আক্রান্ত হয়ে পড়ায় তারা ঠিকমতো ওষুধও খাওয়াতে পারে না। তাই আমরা মাদ্রাসাটি এখান থেকে অন্যত্র স্থানান্তরের চিন্তা করছি। এ অবস্থা শুধু আমাদের নয়, এলাকার প্রতিটি মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ। আমি প্রশসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি তারা যাতে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে এবং এলাকাবাসীর ভোগান্তি কমানোর পদক্ষেপ নেয়। 

ভোগড়া এলাকার বাসিন্দা মমতাজ আলী জানান, এ ড্রেনটি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় ড্রেনের পানি রাস্তায় জমে থাকে। ড্রেনটি অগভীর ও সরু থাকায় এলাকার বাসা বাড়ির পানি ড্রেন উপচে রাস্তা জমে যাচ্ছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আমিন জানান, সারা বছরই এ এলাকার সড়কে পানি থাকে। বৃষ্টি হলেও সড়কে পানি থাকে বৃষ্টি না হলেও পানি থাকে। কোন বন্যা বা বৃষ্টির পানি নয়। এসব হলো বাসা—বাড়ির পানি। বর্ষার দিনে এ পানির পরিমান আরো বেড়ে যায়। পানিতে চলতে গিয়ে অটোরিকশা উল্টে যায় কিংবা অটো রিকশার ইঞ্জিনও অকেজো হয়ে যায়। এমনকি স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীরা ময়লা পানিতে পড়ে গিয়ে তাদের জামা—কাপড়, বই—খাতা ভিজে যায়। এমনকি এ পরিবেশে আমাদের এলাকার ভাড়াটিয়রা অন্যত্র চলে যাচ্ছে। দোকান—পাটে বিক্রি কমে গেছে। বিভিন্ন সময় সিটি করপোরেশনে অভিযোগ জানিয়ে এর কোন স্থায়ী সমাধান হয়নি। সিটি করপোরেশন এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে বিভিন্ন সময় ড্রেনের ময়লা পরিস্কার করলেও কদিন পরেই আগের অবস্থায় ফিেও অসে। কারণ ডেনটি অগভীর এবং এর প্রশস্থতাও কম।

স্থানীয় জৈনুদ্দিন সরকার জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন মো. মোবারক হাসেন জানান, রাস্তার ময়লা ও পচা পানি দিয়ে মুসুল্লীদের মসজিদে আসতে হয়। এতে মসজিদে এসে আবার পরিস্কার হয়ে ওজু করতে হয়। এ নিয়ে মুসুল্লিদেও খুব ভোগান্তি হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা প্রশানকে দ্রুত সমাধানের অনুরোধ করছি। 

ভোগড়া গ্রামের বাসিন্দা আরমান আলী জানান, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ রাস্তাটি ব্যব্হার করে চান্দনা—চৌরাস্তা ও অন্যন্য এলাকায় যাতায়ত করে। এ রাস্তা দিয়ে শত শত অটোরিকশাও চলে। কিন্তু পানিতে চলতে গিয়ে অনেক অটো নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিবছর নাগরিকরা টেক্স দিলেও আমরা প্রকৃতপক্ষে নাগরিক সেবা পাই না। তার জলন্ত উদাহরণ হলো এই রাস্তায় সারা বছরের জলাবদ্ধতা এবং এর ফলে মানুষের ভোগান্তি।  

এলাকার অরো অনেক বাসিন্দা একই অভিযোগ করে বলেন, আমরা এ পরিস্থিতি থেকে দ্রুত রেহাই চাই।  

স্থানীয় অটো রিকশা চালক ভোগড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ সোলায়মান জানান, এ পথ চলতে গিয়ে অনেক সময় সড়কে জমে থাকা পানি রিকশার মোটরে/ইঞ্জিনে ঢুকে গেলে তা অকেজো হয়ে পড়ে। তাই অন্য রুটে চলাচল করি। 

অটোযাত্রী স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, রিকশায় উঠে পা উঁচু করে বসি কারণ অন্য রিকশা বা যানবাহন পাশ কাটাতে গিয়ে অনেক সময় রাস্তার নোংরা পানি জামাকাপড় নষ্ট করে দেয়। এমনকি গোসল ও করতে হয়। 

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৬নম্বর জোনের আঞ্চলিক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার জানান, ড্রেন ও রাস্তায় জলাবদ্ধার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। ড্রেনটি সরু হওয়াতে পানি উপচে রাস্তায় পড়ে এতে জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে। ইতোমধ্যে ড্রেনটি প্রশস্থকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর টেন্ডার প্রক্রিয়াধীণ আছে। আগামি এক মাসের মধ্যে এর কার্যক্রম শুরু করতে পারবো। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে ড্রেনটি পরিস্কারকরার উদ্যোগ নিয়েছি। ১/২দিনের মধেই ড্রেন পরিস্কার করা হবে, যাতে ড্রেনের ময়লা ও পানি সরে যায়। 





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy