
X
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভাপতি, জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজীদ একাংশ) আসনের সাবেক সাংসদ, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের গ্রামের বাড়ির বাসভবনে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত পোনে বারোটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
সরেজমিনে প্রত্যক্ষ্যদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক পোনে বারোটার দিকে শতাধিক দুর্বৃত্ত বাড়ির প্রধান ফটক ও বাসভবনের ফটক ভেঙ্গে বাড়ির নিচ তলা, দোতলা ও বাড়ি ঘেঁষা গাড়ির গ্যারেজ, জেনারেটর ও কেয়ারটেকারের রুমে ব্যাপক ভাংচুর চালায়।
একপর্যায়ে গান পাউডার ব্যবহার করে বাড়ির নিচতলা ও গ্যারেজে অগ্নিসংযোগ করলে একটি প্রাইভেট কার (চট্টমেট্রো গ ১১-৯৪২৯), জেনারেটরসহ রুমের আসবাবপত্র পুড়ে যায়। পরে দ্রুত সশ্রস্ত্র দুর্বৃত্তরা চলে গেলে বাড়ির লোকজন ও এলাকাবাসী মাইকে ঘোষণা দিয়ে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাড়ির এক যুবক বলেন, বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙ্গে ভাংচুরের আওয়াজ শুনলেও শতাধিক দুর্বৃত্তের ভয়ে কেউ ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস করেনি।
তিনি বলেন, দুর্বৃত্তরা গাড়ি রাস্তায় রেখে বাড়িতে হামলা করে। তারা একটি হাইস, তিনটি কার, ছয় সাতটি সিএনজি অটোরিকশা ও পনের বিশটি মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে আসে। যাওয়ার পথে নারায়ে তাকবীর স্লোগান দিলেও এটা তাদের কৌশল ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, কোনো ইসলামিক দল অন্তত আনিস সাহেবের বাড়িতে এ ধরনের ঘৃণ্যতম কাজ করবে না।
বাড়ির পাশের দুলাল নামে এক ব্যক্তি বলেন, ঘটনার আধাঘন্টা আগে এলাকাবাসী দক্ষিণ ছাদেকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে মাহফিল শেষ করে বাড়ি ফেরেন। মাহফিল শেষে সবাই শুয়ে পড়েন। তাই দুর্বৃত্তরা সুযোগ পেয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস আসলেও ততক্ষণে এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
ঘটনাস্থলে ষাটোর্ধ্ব শাহ আলম নামে এক ব্যক্তি আফসোস করে বলেন, হাটহাজারীতে এ ঘটনা ইতিহাসে এটাই প্রথম। নির্বাচনকে সামনে রেখে শান্তির জনপদ খ্যাত হাটহাজারীকে যারা অশান্ত করতে চায় তারা অন্তত ভাল মানুষ হতে পারে না।
গৃহ পরিচারিকা রোকেয়া বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির অভ্যন্তরে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। সশ্রস্ত্র দুর্বৃত্তরা ফটক ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকেই ব্যারিস্টারকে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকেন। এসময় দুর্বৃত্তরা নিহত হাদির রক্তের বদলা নিতে এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, হাটহাজারীতে এমন ঘটনার কল্পনাও করিনি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দোষীদের শনাক্তে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আজ (শনিবার) রাতে মামলার করার কথা জানিয়েছে।