প্রকাশ: শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:২৪ পিএম (ভিজিট : ৪৮)

X
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর গত দুই বছরে ৮ শতাধিক কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। অথচ কিছু ঠিকাদারের গাফিলতির কারনে কয়েক বছরের পুরোন কাজও শুরু করতে পারেনি বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। দীর্ঘ বছর কাজ ফেলে রাখায় কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ১২৯টি ঠিকাদারি লাইসেন্সকে।
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর গত দুই বছরে ডজনখানেক বড় প্রকল্পসহ শতাধিক উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এসব উন্নয়নের পিছনে সরকার বরিশাল জেলায় বরাদ্দও দিয়েছে প্রায় ৮’শ কোটি টাকা। এসব কাজের অধিকাংশই চলমান রয়েছে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে অনেক কাজ।
এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্ধ হয়েছে ২০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, মহিলা পলিটেকনিক অবকাঠামো নির্মানে বরাদ্ধ হয়েছে ৪৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, জেলায় ৬ টি টিএসসি নির্মানে বরাদ্ধ হয়েছে ১২৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মাদরাসার অবকাঠামো নির্মানে বরাদ্দ হয়েছে ৬৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। যেসব কাজ চলমান রয়েছে। তবে বেশ কিছু ঠিকাদারের গাফিলাতির কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম। বন্ধ হয়ে আছে অনেক প্রকল্প। কয়েক বছর আগে ওয়ার্ক অর্ডার হলেও কাজ করছে না অনেক ঠিকাদার। বহুবার চিঠি দিয়েও তাদের মাধ্যমে কাজ শুরু করাতে না পেরে সরকারের উন্নয়ন চলমান রাখতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ওইসব লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্ত করেছে।
নতুনভাবে টেন্ডার করে আবারও সেই কাজ চলমান করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বরিশাল জেলার সদর উপজেলাধীন “৪টি মহিলা পলিটেকনিক স্থাপন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রিন্সিপাল কোয়াটার ও স্টাফ ডরমেটরীর ২ টি কাজ। বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলার নির্বাচিত মাদরাসা সমুহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পর আওতায় ৭ টি কাজ বাতিলপূর্বক পুনরায় দরপত্র আহবান করা হয়েছে। বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৯ টি কাজ বাতিলপূর্বক পুনঃদরপত্র আহবান করা হয়েছে। এ ধরনের বেশ কিছু প্রকল্প পূর্ববর্তী ঠিকাদাররা না করায় পুনঃদরপত্র আহবানের মাধ্যমে কাজ চলমান করা হয়েছে। আর এতেই পাল্টে গেছে ঠিকাদারদের চেহারা।
জেলার উন্নয়ন কাজ ব্যহত করতে প্রতিষ্ঠানটির বরিশাল অফিসের দৈনন্দিন কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরৗ করছে বাতিল হওয়া লাইসেন্সের বেশ কয়েক ঠিকাদার। তারা বিভিন্ন ঠিকাদারকে পর্যন্ত হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি নির্বাহী প্রকৌশলীকেও নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। তাদের লাইসেন্সে পুনরায় কাজ ফিরিয়ে দেয়া অথবা নতুন কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ করছে। আর এ জন্য ওই সকল ঠিকাদারদারা নানা অপকৌশল অবলম্বন করছে। এর ফলে কার্যক্ষেত্রে নানা জটিলতার সম্মুখিন হতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এর প্রভাব গিয়ে পড়ছে চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, গত দুই বছরে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে আশাতীত উন্নয়ন প্রকল্প এসেছে। যার বাস্তবায়ন কাজ চলমান রয়েছে। তবে কয়েক বছর আগের বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ না করে ফেলে রেখেছে কিছু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তাদেরকে বার বার তাগাদা দিলেও কাজ শুরু করেনি। তাই সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প অব্যাহত রাখতে বাধ্য হয়ে সেসব লাইসেন্সের ওয়ার্ক অর্ডার বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে সেগুলো টেন্ডারের মাধ্যমে আবারও চলমান করা হয়। আর এতেই কিছু ঠিকাদারের ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে যায় শিক্ষা প্রকৌশল অফিসের অধিদপ্তরের বরিশাল অফিস। তারা প্রতিষ্ঠানটির সুনাম নষ্ট করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন।