
X
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুফি মিয়ার উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকালে শুরু হওয়া এই চক্ষু চিকিৎসা চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। চার ইউনিয়নের ৪ শতাধিক রোগী এখানে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করবেন। জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে বিনামূল্যে অপারেশন করা হবে। উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে এই চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুফি মিয়া জানান, পশ্চিম পাগলা, দরগাপাশা, পূর্ব পাগলা ও পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের মানুষদের মাইকিং করে দাওয়াত করা হয়েছে। ইউনিয়নগুলোর সুবিধা বঞ্চিত, হতদরিদ্র থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষ এই সেবা গ্রহণ করতে এসেছেন। যারা টাকাপয়সার অভাবে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন না তাদের এটি একটি দারুণ সুযোগ। আমাদের দ্বিতীয় কার্যক্রম হচ্ছে শিক্ষা নিয়ে। ২০২৬ সালে শিক্ষায় আমার ইউনিয়নকে আরো এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা চাইবো। দেশের সবাই তো করবেনই বিশেষ প্রবাসে যারা আছেন তারা বিশেষ সহযোগিতা করবেন বলে প্রত্যাশা করি। সব ধরণের সেবার বাড়িয়ে আমার ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করার ইচ্ছা আছে আমার।
দিনব্যাপী চিকিৎসা চলাকালে চক্ষু শিবির পরিদর্শন করেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফারুক আহমদ, শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির প্রথম যুগ্ম-আহ্বায়ক রওশন খান সাগর, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আওলাদ হোসেন, বিএনপি নেতা সাব্বির আহমদ, ছালেক উদ্দিন, মুকিত মিয়া, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল মিয়া, যুবদল নেতা মনছুর উদ্দিন, শ্যামল চৌধুরী ও জুলাই যোদ্ধা আলী আহমদ দুলাল।
উপকারভোগী ও আক্তাপাড়া ফাজিল মাদ্রাসার ফাজিল বর্ষের ছাত্রী কলি আক্তার ও ইসলামপুর গ্রামের ৮৫ বছর বয়সী বাউল শিল্পী নূর আলী বলেন, এখানে সহজেই আমরা সেবা নিতে পেরেছি। টাকাও লাগেনি। চিকিৎসা সেবা ভালো। চেয়ারম্যান সাহেবসহ যারা এই উদ্যোগটি নিয়েছেন আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছুফি মিয়া জানান, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমার ইউনিয়নের মানুষের বিভিন্ন ভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। গত কিছুদিন পূর্বে আমার আমাদের ইউনিয়নের প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য প্রাথমিক মেধা বৃত্তি পরীক্ষা নিয়েছি। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির মনোনিত সংসদ সদস্য প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ আমার ইউনিয়নের একটি চক্ষু ক্যাম্প করে ছিলেন, তখন এই কাজে বেশ রোগীর উপস্থিত ছিলেন, সবাইকে সেবার আওতায় সে দিন আনা সম্ভব হয়নি। আজ আমার উদ্যোগে সেই সকল রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আমরা আগামীতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো।
উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ফারুক আহমেদ জানান, ইউপি চেয়ারম্যান ছুফি মিয়া এলাকার মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ। মানুষের সেবাই উনার আনন্দ। আমার অত্যান্ত আনন্দিত যে আমাদের অবহেলিত অঞ্চলকে তিনি বার বার তাঁর কাছে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। চক্ষু ক্যাম্পটি কয়েক মাস আগে আমাদের বিএনপির মনোনিত সংসদ সদস্য প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ করেছিলেন। কিন্তু সে দিনে মানুষের উপচে পড়া ভির ছিল। অসংখ্য রোগী অবশিষ্ট থাকেন। ইউপি চেয়ারম্যান ছুফি মিয়ার তাঁর নিজ উদ্যোগে আজ সেই রোগীদের সেবা প্রদান করছেন যেনে আনন্দিত হয়েছি।