প্রকাশ: শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৩৭ পিএম (ভিজিট : ১১২)

X
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল ইমিগ্রেশন আজও কাস্টমস বিভাগের একটি ভবনের ভেতর থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। ইমিগ্রেশনের নিজস্ব ভবন না থাকায় যাত্রীসেবার সকল সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনে নেই কোনো আপ্যায়ন রুম বা যাত্রী বিশ্রামাগার। দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের বসে অপেক্ষা করার মতো সু-ব্যবস্থাও নেই। এমনকি একসঙ্গে ২০ জন যাত্রী বসার ব্যবস্থাও নেই । খাবারের জন্য নেই কোনো ক্যান্টিন বা নির্দিষ্ট খাবার ব্যবস্থা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে পাসপোর্ট চেক করাতে গিয়ে যাত্রীরা ক্ষুধা, দুর্বলতা ও অনেক সময় শারীরিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
নারী ও শিশু যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ইমিগ্রেশনে নেই মাতৃদুগ্ধ পান করানোর জন্য আলাদা কক্ষ। নেই সুপেয় পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা কিংবা ইমার্জেন্সি হেল্প ডেস্ক সুবিধা। বয়স্ক যাত্রীদের জন্য বসার জায়গা না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ইমিগ্রেশন কার্যালয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জায়গা দখল করে রাখা হয়েছে কাস্টমস কর্তৃক আটককৃত কম্বল ও বিভিন্ন মালামাল দিয়ে। যাত্রীসেবার জন্য ব্যবহৃত হওয়ার কথা যে জায়গা, সেখানে স্তূপ করে রাখা এসব মালামাল দেখতে যেমন অশোভনীয়, তেমনি তা ইমিগ্রেশনের পরিবেশকেও অগোছালো করে তুলেছে। যাত্রীদের সামনে এমন দৃশ্য দেশের একটি আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে চরম নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন এর অফিসার ইনচার্জ জানান, কাস্টমস ভবনের সীমিত পরিসরে কাজ করতে গিয়ে নতুন কোনো সেবা যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। জায়গার সংকটই যাত্রীসেবা উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যাত্রী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বেনাপোল ইমিগ্রেশনের জন্য দ্রুত একটি আলাদা ও আধুনিক ভবন নির্মাণ করা জরুরি। ইমিগ্রেশনের নিজস্ব ভবন থাকলে যাত্রীদের জন্য বিশ্রামাগার, আপ্যায়ন রুম, খাবারের ক্যান্টিন, সুপেয় পানি, ইমার্জেন্সি হেল্প ডেস্ক, মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ঘরসহ আন্তর্জাতিক মানের সব সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।
তাদের ভাষ্য, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা শুধু যাত্রী ভোগান্তিই বাড়াচ্ছে না, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।