রাউজানে অস্থিতিশীল পরিবেশ ও সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার মিশনে নেমেছে অজ্ঞাতনামা দুবৃত্তরা। এই অপচেষ্টার অংশ হিসাবে গত ১৭ ডিসেম্বর দুই পাড়ায় (হিন্দু ও বড়ুয়াপাড়ায়) আগুন দেয়ার পর গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে রাউজান পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডে ঢেউয়া পাড়ার তেজন্দ্র লাল শীলের ঘরে আগুন দিয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, আগুন দেয়ার ঘটনা টের পেয়ে তারা ঘরের টিনের বেড়া কেটে বাইর হয়ে আসে। পাড়ার মানুষের সহযোগিতায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
আজ শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা সাবেক কমিশনার রেজাউর রহীম আজম, শহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ রিপনসহ নেতৃবৃন্দ। তারা এখন থেকে দুর্বৃত্তদের ধরতে পাহারা বসাবেন বলে জানান।
এর আগে ১৭ ডিসেম্বর বুধবার রাতে দুর্বৃত্তরা বাইর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে উপজেলার রাউজান সদর ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডে আগুন দিয়েছিল। দুইটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে সদর ইউনিয়নে কেউটিয়া গ্রামের বড়ুয়া পাড়ার সাধন বড়ুয়া ও কুলাল পাড়ার চার ভাই লক্ষী পাল, অধীর পাল, টুনটু পাল, পরান পালের ঘরে। প্রতিটি ঘটনায় আগুন লাগানো হয় ঘরের বাইরে ছিটকিনি লাগিয়ে দিয়ে।
ঘটনার শিকার সাধন বড়ুয়া জানান, গত বুধবার রাতে তার বসত ঘরের বাইর থেকে ছিটকিনি দিয়ে দুর্বৃত্তরা রান্নাঘর ও গরুর গোয়ালে আগুন দেয়। এসময় আগুনের শিখা দেখে সাধন বড়ুয়া ঘরের বিকল্প দরজায় ঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার করার পাশাপাশি গোয়াল থেকে গরুর গলা রশি কেটে দিয়ে গরুগুলোকে রক্ষা করে। এসময় আগুন দেখে পাড়ার লোকজন ছুটে এসে আগুন নিভানোর চেষ্টা করে। পরে রাউজানের ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।
একই রাতে দুর্বৃত্তরা একই কায়দায় কুলাল পাড়ায় চার ভাইয়ের ঘরে আগুন দিলে তারা টের পেয়ে ঘর থেকে বিকল্প পথে বের হয়ে চিৎকার করলে পাড়ার লোকজন ছুটে আসতে দেখে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়ার কোরোসিন ও ছিঁড়া ন্যাকড়া ফেলে পালিয়ে যায়।
জেলা পুলিশ সুপার বলেন, দুষ্কৃতিকারীরা নির্বাচন বানচালের চেষ্টায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে এই ঘটনা ঘটাতে পারে। ঘটনাস্থলের আশেপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে, সম্ভাব্য সব পদ্ধতি ব্যবহার করে দুষ্কৃতিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।