ক্ষমতায় গেলে ইন্টারনেট সেবা সহজলভ্য করা হবে: তারেক রহমান

বগুড়া প্রতিনিধি

সারাবাংলা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে বগুড়া শহীদ টিটু মিলনায়তনে জেলা বিএনপির আয়োজনে বগুড়া ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

2025-12-21T20:38:37+00:00
2025-12-21T20:38:37+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
ক্ষমতায় গেলে ইন্টারনেট সেবা সহজলভ্য করা হবে: তারেক রহমান
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৩৮ পিএম   (ভিজিট : ১৬২)
X

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে বগুড়া শহীদ টিটু মিলনায়তনে জেলা বিএনপির আয়োজনে বগুড়া ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে যেসব ভাইদের আমরা হারিয়েছি, তাঁরা মূলত এ প্রজন্মের তরুণ সদস্য ছিলেন। এই প্রজন্মের অন্যতম বড় অর্জন হলো তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেট। তরুণ সমাজের সঙ্গে ইন্টারনেটের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ইন্টারনেট সেবা আজও সবার জন্য সহজলভ্য নয়। এর প্রধান কারণ ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেকেই ইন্টারনেট সংযোগ নিতে পারেন না। অথচ এই ইন্টারনেটের মাধ্যমেই দেশের তরুণরা পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে থাকে।

তিনি বলেন, এ কাজটি সরকারের করার কথা থাকলেও সরকার তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। সে কারণে বিএনপি দলীয় উদ্যোগে এই কাজ শুরু করেছে।

ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বগুড়া শহরের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে। অর্থের অভাবে যারা ইন্টারনেট সংযোগ নিতে পারেন না, তাদের জন্য এসব স্থানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা চালু করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সারাদেশের মানুষের জন্য ইন্টারনেট সেবা আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আড়াই বছর আগে ঘোষিত বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। জনগণের কাছে এই কর্মসূচিকে সহজভাবে তুলে ধরতে সাতটি বিষয়কে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ফার্মার কার্ড এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। কারণ শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকার সাড়ে ১৬ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ধাপে ধাপে একটি আধুনিক ও মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। একইসঙ্গে প্রান্তিক জনগণের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদলে সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ নারীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

যুব সমাজের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিকায়ন করা হবে। সেখানে বিভিন্ন দেশের ভাষা শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ইউরোপ, আমেরিকা ও চীনে কর্মসংস্থানের জন্য যুবসমাজকে ভাষা শিক্ষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা হবে।

তিনি বলেন, সামনে যে সময় এসেছে, সেখানে আমাদের মূল লক্ষ্য একটাই—কাজ করতে হবে, দেশ গড়তে হবে। সবার আগে বাংলাদেশ। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত এই দেশে অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন, নির্যাতিত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। আজ যাদের স্মরণে ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে, তাঁদের অনেকেই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না শুধু দেশপ্রেম থেকেই তাঁরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর যখন দেশ স্বৈরশাসকদের হাতে ধ্বংসের মুখে পড়েছিল, তখন বগুড়ার সন্তান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে দেশকে বটমলেস বাস্কেট থেকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। রেমিট্যান্স অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলেন তিনিই। শিল্প-কারখানা স্থাপন করে যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও ১৯৯১ সালে বাংলাদেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে এনেছিলেন। আজ আবারও সেই দায়িত্ব আমাদের কাঁধে এসেছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে, বেকারত্ব বেড়েছে, কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। এসব সংকট মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদী গণতন্ত্র ও ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন। জুলাই শহীদদের, একাত্তরের শহীদদের এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান রেখে আমাদের একটাই লক্ষ্য—দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক একেএম ওয়াদুদজ্জামান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবুর রহমান, হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, এমপি প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম, জিএম সিরাজ, মোশারফ হোসেন, আলী আজগার তালুকদার হেনা, সাইফুল ইসলামসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy