
X
নারী নেতৃত্বে ভ্রমণ উদ্যোক্তার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে “ট্রিপ লাভার্স কুমিল্লা”। ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর কুমিল্লা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণপ্রেমীদের একত্রিত করার লক্ষ্যে ফেসবুকভিত্তিক এই গ্রুপটি যাত্রা শুরু করে। এক বছরের মধ্যেই গ্রুপটি কুমিল্লার ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পরিচিত ও আস্থার নাম হয়ে উঠেছে।
গ্রুপটির উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছেন- নাফিজা জামান মীম, অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, কুমিল্লা সরকারি ওমেন্স কলেজ; ফাতেমা আক্তার আদিবা, অনার্স সম্পন্ন, কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ; এবং আরোহী আসিফা, ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, কুমিল্লা সরকারি ওমেন্স কলেজ।
স্বল্প বাজেটে ভ্রমণের স্বপ্ন
“ট্রিপ লাভার্স কুমিল্লা”-এর মূল লক্ষ্য হলো স্বল্প ও সাশ্রয়ী বাজেটে কুমিল্লার মানুষকে দেশের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। ঝর্ণা, পাহাড়, সমুদ্র, নদী—প্রকৃতির প্রতিটি রূপ যেন তাদের নেশা। নিরাপদ, সংগঠিত ও আনন্দঘন ভ্রমণের মাধ্যমেই তারা নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পর্যটন খাতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন।
শ্রীমঙ্গল: সবুজের শান্ত ঠিকানা
শ্রীমঙ্গল প্রসঙ্গে গ্রুপের অন্যতম উদ্যোক্তা নাফিজা জামান মীম বলেন, “শ্রীমঙ্গল শুধু চা-বাগান নয়, এটি মানসিক প্রশান্তির জায়গা। সবুজ প্রকৃতি, লেক, বন আর নীরবতা মানুষকে নতুন করে বাঁচতে শেখায়। যারা ব্যস্ত জীবনে একটু প্রশান্তি খোঁজেন, তাদের জন্য শ্রীমঙ্গল আদর্শ ভ্রমণ গন্তব্য।”
সুন্দরবন: প্রকৃতির অমূল্য ধন
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন নিয়ে ফাতেমা আক্তার আদিবা বলেন, “সুন্দরবন আমাদের গর্ব। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, নদী-খাল, ম্যানগ্রোভ বন—সব মিলিয়ে এটি এক অনন্য প্রাকৃতিক ল্যাবরেটরি। সুন্দরবন ভ্রমণের মাধ্যমে প্রকৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করা যায়।”
কক্সবাজার: সমুদ্রের ডাকে সাড়া
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার নিয়ে আরোহী আসিফা বলেন, “সমুদ্র মানেই মুক্তি। কক্সবাজারের ঢেউ, সূর্যাস্ত আর বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা মানুষের মনে নতুন উদ্দীপনা জাগায়। তরুণদের জন্য এটি যেমন আনন্দের জায়গা, তেমনি পরিবারসহ ভ্রমণের জন্যও নিরাপদ ও উপভোগ্য।”
এক বছরে এক ধাপ এগিয়ে
গ্রুপের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে উদ্যোক্তারা কুমিল্লার ভ্রমণপিপাসুদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন,
“ভ্রমণ শুধু আনন্দ নয়, এটি মানসিক সুস্থতা ও জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়। সবাইকে নিরাপদ ভ্রমণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানাই।”
নারী উদ্যোক্তা ও পর্যটনের ভবিষ্যৎ
“ট্রিপ লাভার্স কুমিল্লা” প্রমাণ করেছে- নারীরা চাইলে উদ্যোক্তা হিসেবে পর্যটন খাতে নেতৃত্ব দিতে পারে। এই উদ্যোগ শুধু ভ্রমণ আয়োজন নয়, বরং কর্মসংস্থান, সচেতনতা ও স্থানীয় পর্যটন উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এক বছরের পথচলায় এই গ্রুপটি কুমিল্লার তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে দেশ ভ্রমণের মাধ্যমে তারা পর্যটন শিল্পে ইতিবাচক অবদান রাখবে এমন প্রত্যাশাই ভ্রমণপ্রেমীদের।