মাদক ও নারীঘটিত কোন্দলে খুলনায় এনসিপি নেতাকে গুলি: পুলিশ
খুলনা ব্যুরো
সারাবাংলা
রাস্তার ওপরে নয়; এনসিপি নেতা মোতালেব শিকদারকে গুলি করা হয়েছে একটি ফ্ল্যাটের ভেতরে। এসময় এক নারীসহ কয়েকজন সেখানে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করছিলেন। কোনো একটি বিষয়ে মতবিরোধ হওয়ায় মোতালবেকে গুলি করা হয়। ওই ফ্লাট থেকে মদ, ইয়াবা, গুলির খোসা, রক্তমাখা কাপড়সহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রাস্তার ওপরে নয়; এনসিপি নেতা মোতালেব শিকদারকে গুলি করা হয়েছে একটি ফ্ল্যাটের ভেতরে। এসময় এক নারীসহ কয়েকজন সেখানে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করছিলেন। কোনো একটি বিষয়ে মতবিরোধ হওয়ায় মোতালবেকে গুলি করা হয়। ওই ফ্লাট থেকে মদ, ইয়াবা, গুলির খোসা, রক্তমাখা কাপড়সহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানাধীন আল-আকসা মজিদ স্বরণীর ১০৯ নং রোডের মুক্তা হাউজের নীচ তলায় এ ঘটনা ঘটার পর পুলিশ, সিআইডি, র্যাব ও যৌথ বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে এ তথ্য উঠে আসে।
ঘটনার পরপরই প্রচার করা হয়- মোতালেবকে একটি চায়ের দোকানে মারধরের পর গুলি করা হয়েছে। তবে পরে আসল ঘটনা প্রকাশ পায়।
সূত্র জানায়, রাতে তন্বী নামের একটি মেয়ের ওই ফ্লাটে মোতালেব শিকদারের সহযোগীরা ইয়াবা সেবন, মদ্যপান এবং মেয়ে নিয়ে ফূর্তি করেছিলেন। নিজেদের মধ্যে মতবিরোধের করণে সহযোগীদের কেউ একজন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সে নিজেই রিকশাযোগে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যায় বলে পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়। ঘটনার পর থেকে ওই ফ্লাটের ভাড়াটিয়া তন্বীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছেনা।
কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ তাজুল ইসলাম বলেন, আজ সোমবার সকালে আমরা তথ্য পেয়েছি এনসিপির একজন গাজী মেডিকেলের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সত্যতা যাচাই কারার জন্য ঘটনাস্থলে আসি। আসার পর ঘটনাস্থল এবং স্বাক্ষী খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে এনসিপির ভিকটিমের প্রাইভেটকার পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয় আশেপাশে কোথাও হয়েছে।
উদ্ধারকৃত গুলির কার্তুজ ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম
তিনি বলেন, তখন লাজফার্মা থেকে আমরা একটি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করি। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভিকটিমসহ আরও দুইজন এখানে আসে এবং কোথায় অবস্থান করছে। সেই ডকুমেন্টস খুজতে খুজতে আমরা এখানে আসি। মুক্তা হাউজের নিচতলার ওই কক্ষ থেকে আমরা মাদকের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করি। এখানে মেয়েদেরকে নিয়ে নিয়ে এসে ফুর্তি করা হতো বলে আমরা জানতে পেরেছি।
কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, গতকাল রোববার রাতে মোতালেব শিকদার এখানে এসেছিল এবং এখানে বিভিন্ন ধরণের অসমাজিক কার্যকালাপ করেছে। তদের নিজেদের মধ্যে কোন্দলের কারণে এ গুলির ঘটনা ঘটেছে যেটা আমরা প্রাথমিক তদন্তে পেয়েছি। এর সাথে আরও অনেকই জাড়িত আছে। মোতালেবকে জিজ্ঞাসা করলে আমরা বাকিদের নাম জানতে পারব। যারা জড়িত আছেন তাদের খুব শিগগিরই আইনের আওতায় আনতে পারব। গুলিটি তার মাথার ভেতরে ঢোকেনি, চামড়া ভেদ করে বের হয়ে গেছে। মোতালেব এখন শঙ্কামুক্ত।
মজিদ স্বরণী রোডের মুক্তা হাউজের মালিকের স্ত্রী আশরাফুন্নাহার বলেন, স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তন্বী নামে এক তরুণী এক মাস (ডিসেম্বরের ১ তারিখ) আগে নিচের ফ্লোরটি ভাড়া নেয়। সে নিজেকে এনজিও কর্মী হিসেবে দাবি করে প্রায়সময় বাড়ির বাইরে থাকত। তার কক্ষে একাধিক পুরুষের আসা-যাওয়া ছিল। পরে অন্যান্যদের মাধ্যমে তার অসমাজিক কার্যকালাপের বিষয়টি জানতে পেরে আমি তাকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ প্রদান করি। কিন্তু বাড়ির ছাড়ার আগেই আজকের এ ঘটনাটি ঘটেছে।