
X
চট্টগ্রাম নগরীর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজস্ব আদায় জোরদারের নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ও বাণিজ্যিক রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রামে ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন খাতে রাজস্ব আদায় এখনো সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও মাঠমুখী হয়ে কাজ করতে হবে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) টাইগারপাস চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সভাকক্ষে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান সানি, স্টেট অফিসার অভিষেক দাশ, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরীসহ বিভিন্ন সার্কেলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০ লক্ষাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্সের সংখ্যা দেড় লক্ষেরও কম। ফলে বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় থেকে নগর কর্তৃপক্ষ বঞ্চিত হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব, কর ফাঁকির প্রবণতা এবং রাজস্ব বিভাগের লজিস্টিক ও জনবল ঘাটতিকে এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সভায় জানানো হয়, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায়ের হার ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শপসাইন ও বিজ্ঞাপন ফি খাতে চলতি ছয় মাসেই আগের বছরগুলোর বাৎসরিক আদায়ের তুলনায় বেশি রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে, যা আগামী দিনে আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
রাজস্ব আদায় জোরদারে লাইসেন্স ও হোল্ডিং শাখার কর কর্মকর্তা, উপকর কর্মকর্তা ও লাইসেন্স ইন্সপেক্টরদের জন্য ভেস্ট ও আইডি কার্ড প্রদান, নিয়মিত সভা, টার্গেট নির্ধারণ, দৈনিক মনিটরিং, সার্কেল অফিস পরিদর্শন এবং মাঠপর্যায়ে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
মেয়র বলেন, করদাতাদের আস্থা ফেরাতে আপিল নিষ্পত্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, আগে যেখানে প্রতিটি সার্কেলে মাসে ১–২টি আপিল বোর্ড অনুষ্ঠিত হতো এবং উপস্থিতি ছিল ২০–৩০ জন, বর্তমানে প্রতি সার্কেলে মাসে ৫টি করে আপিল বোর্ড বসছে এবং প্রতিটিতে ১০০ জনেরও বেশি করদাতা অংশ নিচ্ছেন। ত্রৈমাসিক অ্যাসেসমেন্টের সময় নতুন বা সম্প্রসারিত কোনো হোল্ডিং যেন বাদ না যায়, সে বিষয়েও কঠোর মনিটরিং চলছে।
সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন রাজস্ব কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে ট্রেড লাইসেন্সের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে হবে। প্রথম ধাপে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব মার্কেটসহ নগরীর সকল মার্কেটে সরেজমিন পরিদর্শন চালাতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে দেওয়া যাবে না প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে চসিকের অনুমোদন ও নির্ধারিত ফি আদায় নিশ্চিত করতে হবে। কোচিং সেন্টারসহ সকল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স না নিয়ে ও অনুমতি ছাড়া বিজ্ঞাপন প্রচার করে নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট করছে। এ বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। পাশাপাশি প্রতিদিনের রাজস্ব আদায়ের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। দায়িত্বে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মেয়র।