প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৪৩ এএম আপডেট: ২৩.১২.২০২৫ ১২:৩৩ পিএম (ভিজিট : ৬৭)

X
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় অস্ত্রের মুখে অপহৃত লোটো শো-রুমের স্বত্বাধিকারী পিন্টু আকন্দ (৩৫)-কে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পাশের আদমদীঘী উপজেলার কুমাড়পাড়া এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অপহরণের পর পিন্টুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস উদ্ধারসহ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার হোসেন জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাত ৯টা ৮ মিনিটের দিকে একটি সাদা রঙের হাইস মাইক্রোবাস দুপচাঁচিয়া লটো শো-রুমের সামনে এসে থামে।মাইক্রোবাস থেকে মুখঢাকা চারজন দুর্বৃত্ত নেমে আসে। তাদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে পিন্টু আকন্দকে জোরপূর্বক শো-রুম থেকে টেনে বের করেন। পরে অন্য সহযোগীদের সহায়তায় তাকে মাইক্রোবাসে তুলে বগুড়া–নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে আদমদীঘীর দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। নিহত পিন্টু আকন্দ নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার বাসিন্দা।
অপহরণের ঘটনার পরপরই তার স্বজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা কামনা করেন। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাননি। অভিজ্ঞ যারা মনে করছেন পরপরই যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিতেন তাহলে হয়তো ব্যবসায়ী পিন্টুকে জীবিত উদ্ধার করার সম্ভবত হত। প্রকাশ্য স্থানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে অস্ত্রের মুখে একজন ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
সুধীজনরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা নাগরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মারাত্মক অবনতি নির্দেশ করে। প্রকাশ্যে মানুষ তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনা নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ন্যূনতম আত্মরক্ষার অধিকার নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।