
X
মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ভর্তি খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা পিতৃহীন মেধাবী শিক্ষার্থী জান্নাতুল আরেফিনের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। বিষয়টি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর তার নজরে আসে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বিএনপি নেতৃবৃন্দকে খোঁজ খবর নেওয়ার দায়িত্ব দেন।
নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সাবেক সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় চিফহুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে জানান। সোমবার বিকেলে শিক্ষার্থী আরেফিনের বাড়িতে গিয়ে তাকে আর্থিক সহযোগিতার চেক হস্তান্তর করেন জয়নুল আবদিন ফারুক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন, সেনবাগ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মুক্তার হোসেন পাটোয়ারী, সেনবাগ পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব শহিদ উল্লাহ, স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের কৈয়াজলা গ্রামের আনসার আলী ভুঁইয়া ও শাহিদা আক্তার দম্পতির বড় মেয়ে জান্নাতুল আরেফিন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী আনন্দিত হলেও ভর্তি ও অন্যান্য খরচ নিয়ে এখনও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আরেফিন উপজেলার গাজীরহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। এরপর আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনার অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও আত্মীয়দের সহায়তায় ফেনীর জিয়া মহিলা কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেও জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
আরেফিনের মা সাহিদা আক্তার জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই চার সন্তানকে লালন-পালন করেছেন। বাড়িতে সেলাই মেশিনের কাজ, টিউশনি ও আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবারের শেষ সম্বল ধানের জমি বিক্রি করে মেয়েকে কোচিংয়ে ভর্তি করানো হয়েছে।
কঠোর পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও আত্মবিশ্বাসের ফল হিসেবে জান্নাতুল আরেফিন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় ৪০৪১তম স্থান অর্জন করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান।
জান্নাতুল আরেফিন বলেন, “অষ্টম শ্রেণিতে বাবাকে হারানোর পর জীবন কঠিন হয়ে যায়। তবে মা আমাকে কখনো হাল ছাড়তে দেননি। মেডিকেলে চান্স পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্যার এই দায়িত্ব নিয়েছেন, যা আমাদের জন্য আশীর্বাদ। আল্লাহর অশেষ কৃতজ্ঞতা।”
সাহিদা আক্তার বলেন, “তারেক রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা আমাদের জন্য আশীর্বাদ। নামাজ পড়ব তাদের দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনায়।”