ভালুকায় পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যার শিকার গার্মেন্টস শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসের পরিবারের সঙ্গে সংহতি জানাতে এবং ঘটনার সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য মানবাধিকার কর্মীদের একটি প্রতিনিধি দল তার বাড়িতে যান।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) প্রতিনিধি দলটি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামে পৌঁছায়। দুপুর ১২টার দিকে তারা নিহত দিপু চন্দ্র দাসের গ্রামের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার বিস্তারিত শোনেন। এ সময় তারা শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
নাগরিক কোয়ালিশনের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম বলেন, “আমরা এখানে এসেছি গভীরভাবে মর্মাহত হয়ে। আমাদের দেশে এ ধরনের নৃশংস অন্যায় কখনোই কাম্য নয়। আমরা স্বৈরাচার পতনের পর একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। সেখানে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিনা প্রমাণে একজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, এমনকি তার লাশ পুড়িয়ে অসম্মান করা হয়েছে—এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
তিনি আরও বলেন, “দিপু তার দেড় বছরের কন্যাসন্তানকে রেখে গেছেন। একজন মেধাবী শ্রমিক হিসেবে তিনি তার পরিবারকে আগলে রাখছিলেন। দিপুর শূন্যতা কখনো পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে আমরা ন্যায়বিচার আদায় করবই। সরকারের প্রতি আমাদের দাবি—এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। মব সৃষ্টি করে কাউকে শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”
লেখক ও নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদ বলেন, “দিপুর হত্যাকাণ্ড আমাদের স্তব্ধ করে দিয়েছে। সরকারকে অবশ্যই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটল এবং কেন এটি প্রতিরোধ করা গেল না—তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, উদীচী, ছায়ানটসহ বিভিন্ন সংগঠন বারবার পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারপরও এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, সে প্রশ্ন আমাদের তুলতেই হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ইসলাম ধর্মের অবমাননার অজুহাতে হত্যা করে ইসলাম ধর্মের সম্মান রক্ষা করা যায় না। ইসলাম মানে শান্তি। যারা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না, তারাই প্রকৃত অর্থে ধর্মের শত্রু। আমাদের দায়িত্ব প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বাংলাদেশকে অশান্ত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।”
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির জাকির হোসেন, সম্প্রীতি যাত্রার ফেরদৌস আরা রুমি, মানবাধিকার কর্মী দিপায়ন খীসা, বিডিই আরএম শিপন কুমার রবিদাস, এএল আরডি রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।