চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বরিশাল নগরবাসী। চোরের হামলা থেকে কোনো পেশাজীবী মানুষই রেহাই পাচ্ছেন না। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে বরিশালের এক সাংবাদিকের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত দুই মাসে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে শতাধিক চুরির ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও অধিকাংশ ঘটনাই এখনো উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। আটক হচ্ছে না কোনো চোর।
জানা গেছে, বরিশাল নগরীর আলেকান্দা কাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের সুন্দরবন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক সাংবাদিক আরিফুর রহমানের নির্মাণাধীন ভবনে সোমবার রাতে কোনো এক সময় চোর প্রবেশ করে। চোরেরা ভবনের বাথরুমের বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্যানিটারি পাইপ ও অন্যান্য ফিটিংস নষ্ট করে।
সাংবাদিক আরিফুর রহমান জানান, ভবনের নিচতলার গেট তালাবদ্ধ থাকলেও পাশের একটি ভবন ব্যবহার করে চোর ছাদ দিয়ে নিচে প্রবেশ করে। চোরেরা মেশিন ব্যবহার করে নির্মাণাধীন ভবনের বাথরুমের পাইপ ও ফিটিংস কাটার চেষ্টা করে। শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা বের হলে চোর পালিয়ে যায়। তবে পালানোর আগেই কিছু ফিটিংস নিয়ে যায় এবং বেশ কয়েকটি স্যানিটারি পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা দেখে ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলক বলেও মনে হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়টি কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান সাংবাদিক আরিফুর রহমান।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন উর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটক করতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই মাসে বরিশাল নগরী ও আশপাশের এলাকায় কমপক্ষে শতাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি দিনের আলোতে দোকানের তালা ভেঙে ট্রাক ভর্তি করে মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আর রাতের আঁধারে বাসাবাড়িতে চুরি যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এসব চুরির অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গেই জড়িতদের আটক করতে ব্যর্থ হয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।
নগরবাসীর অভিযোগ, চোর আটক করতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই দিন দিন চুরির ঘটনা মহামারির রূপ নিচ্ছে।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশ চুরির ঘটনায় মামলা না হওয়ায় তদন্ত কার্যক্রমে তেমন অগ্রগতি হয় না।