নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে গত কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও উত্তর-পশ্চিম থেকে হুড়হুড় করে বয়ে আসা হিয়ালি বাতাস শীতের প্রকোপ বাড়িয়েছে। রাতভর পত্রপল্লব ও ঘরের ছাদে টপটাপ শিশির কনা জমে যায়। এতে প্রকৃতি ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছে এবং দিনের বেশির ভাগ সময় সড়ক ও বিস্তীর্ণ জনপদ ঘন কুয়াশার চাদরে মোড়ানো থাকে।
জেঁকে বসা হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষও শীত ও কুয়াশার কারণে কষ্টে পড়েছেন। ঠিকভাবে কাজে যোগ দিতে না পারায় তাদের রুটি-রোজগারে প্রভাব পড়েছে।
শীতজনিত কারণে ছড়িয়ে পড়েছে নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, পাতলা খানা সহ নানা মৌসুমি রোগ। এসব রোগে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যথাযথ চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন।
রাতের হিমেল বাতাস, কনকনে শীতলতা এবং উষ্ণতার মোটা শীতবস্ত্রের অভাব মিলিয়ে শীতার্ত পরিবার, এতিমখানার শিশু, পল্লী ও স্বল্প আয়ের মানুষদের দিন কাটছে কষ্টে। অনেকে খড়কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে বাড়ির উঠোনে বা রাস্তার পাশে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। এটি যেন চিরায়ত গ্রামবাংলার এক প্রতিচ্ছবি।
ঘন কুয়াশার কারণে সকালবেলায় গ্রামীণ মেঠোপথ ও শহরের রাস্তায় ভারি ও হালকা যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। বেলা গড়িয়ে সূর্য কিছুটা আলো ছড়ালেও তেমন উত্তাপ নেই। কৃষিজীবী বলছেন, ঘন কুয়াশা ও হিয়ালি বাতাসে মাঠে ফসল বুনন করা যাচ্ছে না। শ্রমজীবী মানুষও শীত-কুয়াশার কারণে কাজ করতে পারছেন না। অটো ও ভ্যান চালকরা বলেন, হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় সড়কে নামলে হাত-পা জড় হয়ে যায়। ফলে আয়-রোজগারও কমেছে।
স্থানীয় হতদরিদ্র পরিবারের শীতার্ত প্রবীণরা বলেন, মোটা কাপড় কিনতে না পারায় শীতের কষ্ট বেড়েছে। রাতের ঘুমও শান্ত নয়, দিনেও তারা ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সব মিলিয়ে শীত জনজীবনকে কষ্টকর করেছে।
উপজেলায় আবহাওয়া অধিদপ্তর না থাকায় শীতের পারদ জানা সম্ভব হয়নি। সচেতন মহল সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।