বোয়ালমারীর বাজারে ভেজাল খেজুর গুড়ের সয়লাব

দীপঙ্কর পোদ্দার, বোয়ালমারী

সারাবাংলা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ভেজাল খেজুর গুড়ে সয়লাব দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিনি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ

2025-12-24T13:30:06+00:00
2025-12-24T13:30:06+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
বোয়ালমারীর বাজারে ভেজাল খেজুর গুড়ের সয়লাব
দীপঙ্কর পোদ্দার, বোয়ালমারী
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৩০ পিএম   (ভিজিট : ১৫৩)
X

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ভেজাল খেজুর গুড়ে সয়লাব দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিনি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে এসব গুড় তৈরি করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের ভেজাল গুড় খেলে খাদ্যনালীতে ক্যান্সার, কিডনী ও লিভারের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

জানা যায়, গুড় প্রস্তুতকারকরা শীতকালীন চাহিদা ও অতিরিক্ত লাভের জন্য খেজুর রসের সঙ্গে চিনি ও রাসায়নিক মিশিয়ে গুড় উৎপাদন করছেন। বাজারে এই ভেজাল গুড়ের দাম প্রতি কেজি ১৫০-২০০ টাকা। তুলনামূলকভাবে খেজুর রস বা ঝোলা গুড়ের সংমিশ্রণ থাকে এমন গুড় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০০-৪০০ টাকায়।

উৎপাদনকারীরা বলেন, তারা কমদামে নিম্নমানের ঝোলা ও নরম গুড় কিনে তাতে চিনি, রং, হাইড্রোজ, সোডা, ফিটকারি মিশিয়ে বাজারজাত করছেন। তবে খেজুর গাছ থেকে সরাসরি সংগ্রহ করা গুড় মানে উৎকৃষ্ট হলেও খুবই দুষ্প্রাপ্য। এ ধরনের গুড়ের বাজার মূল্য প্রতি কেজি ৬০০-৮০০ টাকা, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

পৌরসভার বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতি কেজি খেজুর গুড় ১৫০-২৫০ টাকা, আর ঝোলাগুড় ১০০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গুড় উৎপাদনকারীরা জানান, কার্তিক মাসের মধ্যভাগ থেকে চৈত্র মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত খেজুর গুড় উৎপাদন হয়। তারা বলেন, বোয়ালমারীতে আগের মতো খেজুর গাছ নেই। প্রতি ৮-১০ লিটার খেজুর রস থেকে এক কেজি গুড় তৈরি হয়।

উৎপাদন খরচ প্রতি কেজি ৩০০-৩৫০ টাকা হলেও, চিনি বা অন্য ভেজাল মেশালে গুড়ের পরিমাণ দ্বিগুণ করা যায়। এতে প্রতি কেজি খেজুর গুড়ের বাজারমূল্য ক্রেতাদের জন্য সহনীয় রাখা সম্ভব হয়। চিনি মেশানো গুড়ের রং ফর্সা ও শক্ত হয়, তবে প্রকৃত স্বাদ ও গন্ধ থাকে না। চিনিমুক্ত খেজুর গুড় কালো রঙের হয় এবং এতে স্বাভাবিক স্বাদ ও গন্ধ অটুট থাকে।

বোয়ালমারীর প্রসিদ্ধ গুড় ব্যবসায়ী মানিক রায় জানান, তার কাছে ১৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত খেজুর গুড় পাওয়া যায়। তিনি নিজে গুড় তৈরি করেন না, তাই এর উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন না।

বোয়ালমারী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ফরিদপুরের খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য আজ আর নেই। গুড় উৎপাদনকারীরা ক্ষতিকারক রাসায়নিক মিশিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ডিসিপ্লিন) ডা. মো. খালেদুর রহমান জানান, চিনি, রং, হাইড্রোজ, সোডা, ফিটকারি মিশিয়ে তৈরি গুড় খাদ্যনালীতে ক্যান্সার, কিডনী ও লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিব্বির আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমার নলেজে আছে। এটি পরীক্ষার বিষয়। বিএসটিআইয়ের টিম আনা হবে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানের গুড় পরীক্ষা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy