
X
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বড়দিন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে খ্রিষ্টান আদিবাসী পল্লিগুলো। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার সাঁওতাল অধ্যুষিত এলাকাগুলো।
উৎসবকে কেন্দ্র করে খ্রিষ্টান সাঁওতাল পল্লীর নারীরা নিজ হাতে বাড়িঘরে আলপনা এঁকে বর্ণিল সাজে সাজিয়ে তুলছেন তাঁদের বসতভিটা। জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলায় সাঁওতাল অধ্যুষিত পাড়া রয়েছে মোট ৭২টি। এর মধ্যে এবছর ৬৩টি গির্জায় জাঁকজমকভাবে বড়দিন উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবগুলো গির্জাই বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হচ্ছে। খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী যিশু খ্রিষ্টের জন্ম হয়েছিল গোয়ালঘরে। সেই স্মৃতিকে স্মরণ করে বড়দিন উপলক্ষে গির্জাগুলোতে প্রতীকী গোয়ালঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
উপজেলার সূর্যপাড়া, পারইল, দক্ষিণ বাসুদেবপুর, নথন ও সিরামপুর এলাকার খ্রিষ্টান অধ্যুষিত পল্লিগুলো ঘুরে দেখা যায়, বাসিন্দারা কয়েক দিন ধরেই ফুল, বেলুন, নকশা করা কাগজ, জরি ও রং দিয়ে তাঁদের গির্জা ও বাড়িঘর সাজাচ্ছেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে আলাদীপুর ইউনিয়নের সূর্যপাড়া, পারইল ও সিরামপুর সাঁওতাল পল্লিতে গিয়ে দেখা যায়, নারীরা রং-তুলি হাতে মাটির দেয়ালে দৃষ্টিনন্দন আলপনা আঁকছেন। অনেকে নতুন কাপড় কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
দক্ষিণ বাসুদেবপুর সূর্যপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দলবদ্ধভাবে নারীরা ঘরবাড়ি ও উঠান সাজাচ্ছেন। মাটির ঘরে কয়লার গুঁড়ো দিয়ে তৈরি কালো রং, বাজার থেকে কেনা নীল রং, চুনসহ নানা রঙের ব্যবহার করে মাটির দেয়ালে আঁকা হচ্ছে অসাধারণ কারুকার্যময় আলপনা ও ফুল। আলপনা আঁকতে ব্যস্ত লুচিয়া কিসকু বলেন, “বড়দিন উপলক্ষে বাড়ি সাজাচ্ছি। হাতে টাকা নেই, তবু বড়দিন তো উদযাপন করতেই হবে—তাই নিজের হাতেই সাজাচ্ছি ঘরবাড়ি।” একই কথা বলেন ইতি কিনা মার্ডি।
এভাবেই কাজিহাল ইউনিয়নের পারইল কোদবীর মিশনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলবিনা বাস্কে চুন দিয়ে আলপনা আঁকছেন। তিনি বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। টাকা-পয়সা কম থাকলেও উৎসব পালন করি।” উপজেলার সাঁওতাল নেতা কমল কিসকু জানান, ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলার ব্যাপ্টিস্ট, ক্যাথলিক, লুথেরান, এফসিসি ও চার্চ অব গডের ৬৩টি গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
কাজিহাল ইউনিয়নের পারইল কোদবীর ক্যাথলিক চার্চের ফাদার রবেন হাসদা বলেন, “খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিষ্ট ২৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালনার জন্য তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন। বড়দিন উপলক্ষে গির্জায় নানা আয়োজন করা হয়েছে। এদিন বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করা হয়।” উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, বড়দিন উপলক্ষে উপজেলার ৬৩টি গির্জার প্রতিটিতে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আহমেদ হাসান বলেন, “উপজেলার ৬৩টি গির্জায় বড়দিন উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে সরকারিভাবে মোট ৩১ টন ৫০০ কেজি চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে উৎসব উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি থাকবে।”