
X
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় শুরু হয়েছে ইরি–বোরো ধানের বীজ রোপণের মৌসুম। হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন কৃষকদের কর্মচাঞ্চল্য চোখে পড়ছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বীজতলা প্রস্তুত, বীজ বপন ও জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। শীতের শেষ প্রান্তে অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত পানি এবং সরকারি কৃষি সহায়তায় নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কৃষকেরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অনেক স্থানে বীজতলা ইতোমধ্যেই সবুজ চারায় ভরে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গত বছরের তুলনায় এবার কৃষকদের আগ্রহ ও প্রস্তুতি অনেক বেশি। সময়মতো বীজ ও সার পাওয়ায় চাষাবাদে স্বস্তি ফিরেছে হাওরপাড়ের কৃষক পরিবারগুলোতে।
অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ইরি–বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ১৮০ হেক্টর জমি। কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ১০ জন কৃষককে বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া হাইব্রিড বীজ কর্মসূচির মাধ্যমে ১ হাজার ১৪০ জন কৃষককে হাইব্রিড বীজ সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি এসব সহায়তা কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। সঠিক পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ফলন সন্তোষজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হক বলেন, “গত কয়েক বছর নানা সংকটের মধ্য দিয়ে চাষাবাদ করতে হয়েছে। এবার বিনামূল্যে বীজ ও সার পাওয়ায় খরচ কমেছে। এতে আমাদের মতো সাধারণ কৃষকদের অনেক উপকার হয়েছে।”
একই এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, “আবহাওয়া এখন পর্যন্ত ভালো রয়েছে। বীজতলাও ভালো হয়েছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার বোরো ধান থেকে ভালো ফলনের আশা করছি।”
পুর্ব অষ্টগ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “হাইব্রিড বীজ পেয়েছি এবং কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে চাষাবাদ সহজ হয়েছে এবং উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে কৃষকদের নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই দমন ও সঠিকভাবে কীটনাশক ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয়।
সামগ্রিকভাবে অষ্টগ্রামের হাওরাঞ্চলে ইরি–বোরো ধানের বীজ রোপণের এই মৌসুম কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়োপযোগী পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।